কলকাতা, ১৬ মার্চঃ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন-কে সামনে রেখে কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারির রূপরেখা ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। সোমবার সর্বদল বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতেই একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি দফার ভোটে প্রায় ২২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রতিটি জেলায় দুজন করে পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং কমিশনারেট এলাকাতেও আলাদা পুলিশ অবজারভার থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে এবং ভোটারদের কোনওরকম ভয়ভীতি না থাকে, তা নিশ্চিত করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।ভোটকে ঘিরে ভুয়ো খবর ও গুজব ছড়ানো রুখতেও বিশেষ নজর রাখা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্মগুলির উপর কড়া নজরদারি চালানো হবে বলে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই নির্বাচনী বিধি কার্যকর হওয়ার পর প্রায় ১১২ কোটি টাকার নগদ ও বিভিন্ন সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও জানান সিইও।
রাজ্যে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ধরা হয়েছে ৮০ হাজার ৭১৯টি। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে এবং প্রয়োজনে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে। এছাড়াও প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৮৫ বছরের বেশি বয়সি এবং ৪০ শতাংশ বা তার বেশি শারীরিক অক্ষমতার শংসাপত্র থাকা ভোটাররা চাইলে বাড়িতে বসেই ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, কোথাও ভয় দেখানো, হামলা বা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। একইসঙ্গে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল জমা রাখার জন্য টোকেন পদ্ধতিও চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।





