খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৪ মার্চঃ প্রায় ছয় মাস বন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেলেন লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শনিবার যোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। তার কয়েক ঘণ্টা আগেই তাঁর বিরুদ্ধে জারি থাকা জাতীয় নিরাপত্তা আইন-এর নির্দেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানায়, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেল থেকে বেরোনোর সময় তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ তিনি স্ত্রীর সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে জেল চত্বর ত্যাগ করেন।
ওয়াংচুকের মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন অশোক গেহলট। তবে একই সঙ্গে তিনি এই ঘটনাকে ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ এক পোস্টে তিনি লেখেন, যিনি এক সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র নীতিকে সমর্থন করেছিলেন, লাদাখের অধিকার ও পরিবেশ রক্ষার দাবি তোলার পরই তাঁকে কঠোর আইনে গ্রেফতার করা হয় এটা অত্যন্ত পরিহাসের বিষয়।
গেহলতের প্রশ্ন, কয়েক মাস আগে যাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলা হয়েছিল, হঠাৎ তাঁকে কীভাবে মুক্তি দেওয়া হল। এর অর্থ কি তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শক্ত প্রমাণ ছিল না? তিনি আরও জানতে চান, প্রায় ১৭০ দিন আটক থাকার দায় কে নেবে এবং তাঁকে আদৌ কেন গ্রেফতার করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর লেহ জেলার প্রশাসকের নির্দেশে সোনম ওয়াংচুককে এনএসএ আইনের আওতায় আটক করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, তাঁর কিছু বক্তব্য জনতাকে উস্কে দিতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
এর কয়েক দিন আগেই লাদাখে রাজ্যের মর্যাদা ও সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ২৪ সেপ্টেম্বর ওই আন্দোলন ঘিরে হিংসার ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় পঞ্চাশ জন আহত হন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, তখন লেহ শহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছিল। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওয়াংচুককে আটক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার দিকে এগোচ্ছে বলেই তাঁর বিরুদ্ধে নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
কেন্দ্র জানিয়েছে, লাদাখের মানুষের দাবি ও উদ্বেগ নিয়ে স্থানীয় নেতৃত্ব ও সামাজিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে সংলাপের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হবে।





