খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১১ মার্চঃ স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে এক ঐতিহাসিক রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ৩২ বছরের হরিশ রানার স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন মঞ্জুর করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রে আদালত স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিল বলে মনে করা হচ্ছে। আদালত হরিশের লাইফ সাপোর্ট বা জীবনদায়ী চিকিৎসা ব্যবস্থা খুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে স্পষ্ট আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করতে কেন্দ্রীয় সরকারকেও পরামর্শ দিয়েছে আদালত।
হরিশ রানা গত ১৩ বছর ধরে কোমায় আচ্ছন্ন। তিনি কোয়াড্রিপ্লেজিয়া রোগে আক্রান্ত এবং দীর্ঘ সময় ধরে কোনও উন্নতির লক্ষণ দেখা যায়নি। ২০১৩ সালে এক বহুতল থেকে পড়ে গিয়ে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। সেই ঘটনার পর থেকেই তিনি কোমায় রয়েছেন। হরিশ তখন পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি-এর ছাত্র ছিলেন। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় নেই।
এই পরিস্থিতিতে হরিশের বাবা-মা তাঁর স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। মামলাটি খতিয়ে দেখতে আদালত নয়ডা জেলা হাসপাতালে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেয়। মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে একাধিক আলোচনার পর আদালত বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।
মঙ্গলবার মামলার শুনানি হয় বিচারপতি জে.বি. পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে. ভি. বিশ্বনাথন-এর বেঞ্চে। বিচারপতিরা জানান, দুটি বিষয় বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রথমত, রোগীর দীর্ঘদিনের চিকিৎসা পরিস্থিতি এবং দ্বিতীয়ত, রোগীর স্বার্থে কোনটি সবচেয়ে মানবিক সিদ্ধান্ত।
এই রায়কে ঘিরে দেশজুড়ে নতুন করে স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে এবং দেশে স্বেচ্ছামৃত্যু সংক্রান্ত আইনি কাঠামো তৈরির পথে নতুন দিশা দেখাতে পারে।










