মুর্শিদাবাদ, ১১ মার্চঃ রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনের মাঝে আরও বড় বিপাকে পড়লেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এবার তাঁর স্ত্রী মিতা সুলতানাকে তলব করল শক্তিপুর থানার পুলিশ। অভিযোগ, নিয়ম বহির্ভূতভাবে জলাজমি বুজিয়ে সেখানে বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। আগামী বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ তাঁকে থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
মুর্শিদাবাদের মাণিক্যহার গ্রামে হুমায়ুন কবীরের একটি বাড়ি রয়েছে। এই বাড়িটি তাঁর স্ত্রী মিতা সুলতানার নামে নথিভুক্ত। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নথিতে ‘নালা’ বা জলাভূমি হিসেবে চিহ্নিত জমিতে কোনো প্রকার রূপান্তর (Conversion) ছাড়াই এই বিশাল অট্টালিকাটি নির্মাণ করা হয়েছে। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর সূত্রে খবর, জে এল নম্বর ৯২-এর অন্তর্গত ওই প্লটে প্রায় ০.২ একর জমির চরিত্র বেআইনিভাবে বদল করা হয়েছে।
এই মর্মে স্থানীয় বাসিন্দাদের গণস্বাক্ষর-সহ একটি অভিযোগ জমা পড়ার পর ভূমি দপ্তর থেকে মিতা সুলতানাকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছিল। সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক উত্তর না পেলে কেন ১৯৫৫ সালের পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পুলিশের ডাক পড়ল হুমায়ুন-জায়ার।
যদিও এই পুরো ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর বক্তব্য, “আমরা ওই বাড়িতে ১৭-১৮ বছর ধরে বসবাস করছি। বাম আমলে বহুবার জমির চরিত্র পরিবর্তনের আবেদন জানিয়েও কাজ হয়নি। এখন আমি নতুন দল গঠন করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করছি বলেই আমাকে ও আমার পরিবারকে হেনস্তা করা হচ্ছে। বাড়ি তৈরির সময় প্রশাসন কোথায় ছিল?”
বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হুমায়ুন কবীরের মতো প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে পুলিশের এই সক্রিয়তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বুধবারের হাজিরা শেষে পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।





