খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১ মার্চঃ ভোট ঘোষণার আগেই বড়সড় পরিবর্তন। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর নিজের নতুন রাজনৈতিক দলের নাম বদলাতে বাধ্য হলেন। এতদিন ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামে দল গড়ার কথা ঘোষণা করলেও এখন সেই নাম পরিবর্তন করে রাখা হল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’। প্রতীক পাওয়ার আগেই এই নামবদল রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্য তৈরি করেছে।
হুমায়ুন কবীর জানান, ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামে আগেই একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে নথিভুক্ত রয়েছে। তাঁর দাবি, রুহুল আমিন নামে এক ব্যক্তি বহু আগেই একই নামে দল নিবন্ধন করিয়েছেন এবং সেই দল নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতিও পেয়েছে। দিল্লি থেকে প্রেরিত একটি চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়। এরপরই দিল্লি গিয়ে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন হুমায়ুন। তিনি বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক দলের নতুন নাম আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। খুব শিগগিরই আমরা দলের লোগো ও প্রতীক পেয়ে যাব বলে আশাবাদী।”
নতুন দল গড়ে ইতিমধ্যেই বড় রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দলই সবচেয়ে বেশি আসন পাবে এবং সরকার গঠন করবে। শুধু দল গড়াই নয়, একাধিক ছোট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠনের কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, মিম, এসডিপিআই, আজাদ সমাজবাদী(কাশীরাম)পার্টি-সহ কয়েকটি আঞ্চলিক ও ছোট দল ইতিমধ্যেই জোটে শামিল হতে আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি রুহুল আমিনের দলকেও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
হুমায়ুনের বক্তব্য, “আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সর্বশক্তি দিয়ে রাজ্য থেকে শাসকদলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাই। মানুষের বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়াই আমাদের লক্ষ্য।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে এই জোট রাজনীতির কৌশল নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের শেষদিকে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে হুমায়ুন কবীরকে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপরই তিনি নিজের দল গঠনের ঘোষণা করেন। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকতে এবং আসন্ন নির্বাচনে সরাসরি লড়াইয়ের লক্ষ্যেই এই নতুন দল গঠন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে ভোটের আগেই দলের নাম বদলাতে হওয়ায় শুরুতেই প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হল তাঁকে। প্রতীক বরাদ্দ এবং সংগঠন গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ এখন বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবু আত্মবিশ্বাসী হুমায়ুন কবীরের দাবি, “আম জনতা উন্নয়ন পার্টি আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠবে।”





