মালদা, ২৬ ফেব্রুয়ারিঃ মালদার বামনগোলা থানার পাকুয়াহাট এলাকায় রহস্যজনক অবস্থায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এক ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। বৃহস্পতিবার ভোরে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল-এর মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রীর নাম মেহেক বিশ্বাস (১৮)। তিনি পাকুয়াহাট এএনএম হাইস্কুলের ছাত্রী ছিলেন। চলতি বছর কলা বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন। বুধবার রাতে পরিবারের সদস্যরা একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। বাড়িতে একাই ছিলেন মেহেক। গভীর রাতে বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যরা দেখেন, শোবার ঘরে সিলিং থেকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছেন তিনি।
মৃতার বাবা আশুতোষ বিশ্বাস, পেশায় কৃষক। মা লিপিকা বিশ্বাস গৃহবধূ। তিন বোনের মধ্যে মেহেকই ছিলেন বড়। শোকে ভেঙে পড়া বাবা জানান, “গ্রামের একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে গিয়েছিলাম। বড় মেয়ে যায়নি। রাতে ফিরে এসে দেখি এই অবস্থা। কেন এমন করল কিছুই বুঝতে পারছি না।”
ঘটনার পর পুলিশ ছাত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রেমঘটিত কারণ বা অন্য কোনও চাপ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। প্রতিবেশীদের অনেকেই জানান, মেহেক মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিল। কী কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা জানতে তদন্তের দিকেই তাকিয়ে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।










