খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২০ ফেব্রুয়ারিঃ গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে চর্চার কেন্দ্রে ডায়মন্ড হারবারের বাম নেতা প্রতীক উর রহমান। শোনা যাচ্ছে, তিনি কাস্তে-হাতুড়ির শিবির ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানাননি তিনি, তবে সাম্প্রতিক মন্তব্যে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রতীক উর। একসময় এই প্রকল্পকে ‘ভিক্ষা’ বললেও এখন তাঁর অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর কথায়, “একটা সময় আমরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে বলতাম ভিক্ষা। এখন বুঝছি ওটা ভিক্ষা না, ওটা মানুষের অধিকার। মুখ্যমন্ত্রী মানুষকে তাঁদের অধিকার বুঝিয়ে দিয়েছেন। মা-বোনেরা তাঁদের আত্মসম্মান ফিরে পেয়েছেন। আমরা আগে ভুল বুঝেছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকারের কিছু কাজ যে ভালো হয়েছে, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। এমনকি ক্ষমতায় এলে ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর কথাও বামেরা বলেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, সিপিএম মানুষের থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, সিপিএমের রাজ্য ও জেলা কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের চিঠি দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তাঁর ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তিনি তৃণমূলের পথেই হাঁটতে পারেন। যদিও প্রতীক উর নিজে বলেছেন, “আমি একটা বাঁকের মুখে দাঁড়িয়ে আছি। তার ওপারে কী রয়েছে, তা আমিও জানি না।”
দলের অন্দরমহলেও তাঁর ক্ষোভের কথা প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি বারবার জানিয়েছেন, দলের প্রতি নয়, কিছু নেতার আচরণের প্রতি তাঁর অভিমান। পদত্যাগপত্র দেওয়ার পর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। পাশাপাশি নাম না করে দলের নতুন নেতৃত্বের দিকেও আঙুল তুলেছেন।
সব মিলিয়ে, প্রতীক উর রহমানের অবস্থান এখন রাজনৈতিক বাঁকবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি কোন পথে হাঁটবেন, তা স্পষ্ট হবে সময়ই বলবে।





