খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২ ফেব্রুয়ারিঃ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ইস্যুতে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত এবার পৌঁছে গেল রাজধানী দিল্লিতে। বাংলা থেকে নিয়ে যাওয়া ‘এসআইআরে ক্ষতিগ্রস্ত’ পরিবারের সদস্যদের হেনস্থার অভিযোগ সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খবর পেয়েই ঘরের শাড়ি না বদলিয়ে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে তিনি ছুটে যান দিল্লির বঙ্গভবনে। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বর্তমানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ চলছে। শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এসআইআরের চাপে বাংলায় একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ নির্বাচন কমিশনের নথিতে ‘জীবিত থেকেও মৃত’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে গিয়েছেন। এই অভিযোগ জানিয়ে ইতিমধ্যেই ছ’বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও উত্তর মেলেনি বলেই দাবি তাঁর।
এই পরিস্থিতিতে এসআইআরে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে যান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয় বঙ্গভবনে। কিন্তু সোমবার সকাল থেকেই বঙ্গভবনের সামনে দিল্লি পুলিশের অস্বাভাবিক তৎপরতা নজরে আসে। অভিযোগ, গোটা এলাকা পুলিশ দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় এবং এমনকি বঙ্গভবনের ভিতরেও ঢুকে তল্লাশি চালানো হয়। এই খবর পেয়েই আর সময় নষ্ট না করে সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী।
বঙ্গভবনে পৌঁছে প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করে তাঁদের আশ্বস্ত করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁদের সাহস জোগান। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, “দিল্লি পুলিশ আমাদের ভবনের ভিতরে ঢুকে ঘরে ঘরে সার্চ করছে। এখানে বাংলার মানুষ রয়েছেন। এটা আমাদের ভবন, ওরা এভাবে ঢুকতে পারে না।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এসআইআরের কারণে যাঁদের পরিবারে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ এবং যাঁরা জীবিত থেকেও কমিশনের নথিতে মৃত বলে চিহ্নিত, তাঁদের নিয়েই তিনি দিল্লিতে এসেছেন। দিল্লি পুলিশের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, “আমাকে দুর্বল ভাববেন না। অনেক দূর থেকে এই মানুষগুলোকে এনেছি। ওঁদের ভয় দেখানো যাবে না।”
বঙ্গভবনের সামনে দিল্লি পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রীকে কথা বলতে দেখা যায়। রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে মমতা স্পষ্ট করেন, “এই দেশে যদি আর কেউ না-ও লড়ে, আমি লড়ব।” এসআইআর ইস্যুতে তৃণমূলের অবস্থান আরও জোরালো করতে মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গভবন থেকেই সাংবাদিক বৈঠকের ডাক দিয়েছে দল। সেই বৈঠক থেকে মমতা-অভিষেক কী বার্তা দেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





