খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৯ জানুয়ারিঃ নামেও ভুল নেই, বয়সেও নয়। আত্মীয়তার বয়সের ফারাকও নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব নির্দেশিকা মেনেই। তবু বহু ভোটারের নাম উঠে এসেছে ‘সন্দেহজনক’ তালিকায়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ‘আনম্যাপড’ ও ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি ইন ম্যাপিং’ সংক্রান্ত তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে, বিষয়টি আর বিচ্ছিন্ন কিছু ভুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই প্রশ্ন উঠছে গোটা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই।
ভুক্তভোগী ভোটারদের প্রশ্ন, সব তথ্য সঠিক থাকলে কোন যুক্তিতে তাঁদের এসআইআর (SIR) শুনানিতে ডাকা হচ্ছে? আর এই দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির দায় কার? যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার সুভাশিস সাহুর ঘটনাই তার উদাহরণ। বয়স ৫৬। ইনিউমারেশন ফর্মে আত্মীয় হিসেবে নিজের ঠাকুমার নাম উল্লেখ করেছিলেন তিনি। ২০০২ সালে তাঁর ঠাকুমার বয়স ছিল ৮৩ বছর। সেই হিসেব অনুযায়ী ২০২৫ সালে বয়স দাঁড়ায় ১০৬। অর্থাৎ ভোটার ও তাঁর ঠাকুমার বয়সের ফারাক ৫০ বছর। কিন্তু কমিশনের সফটওয়্যারের দাবি, এই ফারাক নাকি ৪০ বছরের কম। কোন অঙ্কে এই হিসেব করা হল, তার কোনও ব্যাখ্যা নেই।
এই সমস্যা শুধু যাদবপুরেই সীমাবদ্ধ নয়। একই কেন্দ্রের নুপুর মুখোপাধ্যায় ও পায়েল মুখোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও আত্মীয়তার বয়সের ফারাক সম্পূর্ণ বিধিসম্মত হলেও তাঁদের নাম রয়েছে ‘ডিএম’ তালিকায়। আবার মেদিনীপুরের সুব্রত বেরার নাম ২০০২ ও ২০২৫ দু’টি ভোটার তালিকাতেই একই বানানে নথিভুক্ত, তবু তাঁকেও সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, রাজ্যজুড়ে প্রায় পাঁচ লক্ষ ভোটার এই তথাকথিত ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’র জালে আটকে পড়েছেন। বিএলওদের জানানো হলেও উত্তর মিলছে না, শুধু শুনানিতে হাজিরার নির্দেশ। ইআরওদের দাবি, চোখে দেখেই ভুল ধরা পড়ছে,কিন্তু সংশোধনের ক্ষমতা তাঁদের হাতে নেই সবটাই নির্ভর করছে সফটওয়্যারের উপর।
রাজনৈতিক মহলের অভিযোগ, এই তালিকা প্রকাশ্যে এলে কমিশনের গলদ সামনে আসবে, সেই আশঙ্কাতেই প্রথমে অনীহা ছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিল।





