দিনহাটা, ৭ নভেম্বরঃ দীর্ঘ টালবাহানা, রাজনৈতিক টানাপড়েন এবং একাধিকবার নির্বাচন প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার পর অবশেষে পেটলা গ্রাম পঞ্চায়েতে গঠিত হল নতুন নেতৃত্ব। কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে এ দিন পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাচিত হলেন জয়ন্ত কুমার বর্মন। উপপ্রধানের দায়িত্ব পেলেন মুকুল চন্দ্র বর্মন। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় নির্বাচন প্রক্রিয়া। তবে একটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচন ঘিরে এত বিপুল নিরাপত্তার আয়োজন এবং বাউন্সার মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
২৯ আসনবিশিষ্ট পেটলা গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সদস্যের মৃত্যুর পর বর্তমানে আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮। এর মধ্যে বিজেপির সদস্য রয়েছেন পাঁচ জন। অন্যদিকে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের ১৩ জন পঞ্চায়েত সদস্য পদত্যাগ করেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে পঞ্চায়েতের স্বাভাবিক কাজকর্ম কার্যত থমকে যায়। ব্যাহত হতে থাকে সাধারণ মানুষের পরিষেবা।
এর পর থেকেই প্রধান গঠন নিয়ে শুরু হয় টানাপড়েন। একাধিকবার নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা কারণে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। কখনও সদস্যদের অনুপস্থিতি, কখনও অন্য প্রশাসনিক জটিলতায় ভেস্তে যায় প্রধান নির্বাচন। কিছুদিন আগেও নির্ধারিত দিনে এক পঞ্চায়েত সদস্য উপস্থিত না থাকায় প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচন করা যায়নি। ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা পঞ্চায়েতে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত ফিরে যান। পরে প্রশাসনের তরফে নতুন করে নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়।
সেই মতো এ দিন কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সম্পন্ন হয় নির্বাচন। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক বাউন্সারের উপস্থিতিও নজর কাড়ে। আর তা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। একটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেন এত সংখ্যক বাউন্সার আনার প্রয়োজন হল, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচিত হওয়ায় এবার পেটলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পরিষেবা স্বাভাবিক ছন্দে ফেরে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে এলাকার বাসিন্দারা। প্রশাসনিক কাজের গতি ফেরানোই এখন নবনির্বাচিত নেতৃত্বের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।







