কলকাতা, ৫ নভেম্বরঃ রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক। বিভিন্ন জেলায় শাসকদলের নেতা-কর্মীদের হাতে পদ্ম-পতাকা তুলে দেওয়ার ছবি সামনে এসেছে। কিন্তু সেই যোগদান ঘিরেই এ বার প্রকাশ্যে এল বিজেপির অন্দরের বিরোধ। উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যদের বিজেপিতে যোগদানকে কেন্দ্র করে দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বেধে গেল সংঘাত। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, যোগদান অনুষ্ঠানের মধ্যেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দু’পক্ষের কর্মী-সমর্থকেরা।
ঘটনার সূত্রপাত বাজিতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে। ওই পঞ্চায়েতে তৃণমূলের মোট সদস্য ১৬ জন। তাঁদের মধ্যে উপপ্রধান-সহ ১০ জন বৃহস্পতিবার বিজেপিতে যোগদান করেন। স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সহ-সভাপতি দীপক সরকারের হাত ধরে তাঁদের দলীয় পতাকা তুলে দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু যোগদান পর্ব চলাকালীনই সেখানে হাজির হন বিজেপির স্থানীয় ৫ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি সৌমেন গায়েন-সহ দলের একাংশের নেতা-কর্মী। অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি তোলেন তাঁরা। তা থেকেই শুরু হয় বচসা, পরে যা হাতাহাতির চেহারা নেয়।
বিজেপির ওই অংশের অভিযোগ, দীপক সরকার আদতে তৃণমূলের লোক। নিজেকে বিজেপি নেতা হিসাবে তুলে ধরে এলাকার ‘হার্মাদ বাহিনী’কে দলে ঢোকানোর চেষ্টা করছেন তিনি। এই ধরনের যোগদান তাঁরা কোনও ভাবেই মেনে নেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সৌমেন গায়েন। একই সুর বসিরহাট বিজেপি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্যের গলাতেও। তাঁদের দাবি, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে এমন কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। ঘটনার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।
রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, তৃণমূলের কোনও ‘বেনোজল’ দলে ঢুকতে দেওয়া হবে না। কিন্তু বিভিন্ন জেলায় দলবদলের ছবি সামনে আসতেই সেই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাদুড়িয়ার ঘটনা সেই বিতর্ককেই আরও উস্কে দিল।
ক্ষমতার পালাবদলের পর নতুন করে সংগঠন সাজানোর প্রক্রিয়ায় বিজেপির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ, কাদের দলে নেওয়া হবে এবং কাদের নয়। বাদুড়িয়ার সংঘাত সেই প্রশ্নই ফের সামনে এনে দিল।





