কলকাতা, ২ নভেম্বরঃ পুরভোটের দামামা বাজার আগেই কলকাতার রাজনৈতিক অলিন্দে উলটপুরাণের ইঙ্গিত। যে তৃণমূলের টিকিট পেতে একসময় নেতা-নেত্রীদের বাড়িতে নিয়মিত দরবার করতেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা, তাঁদের অনেকেই এখন ভোটের ময়দানে নামতে অনাগ্রহী। কেউ ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলছেন, কেউ আবার নির্বাচনী লড়াইয়ের খরচ জোগানোর সামর্থ্য নিয়ে সংশয়ে। আর একাংশের নজর ঘুরেছে গেরুয়া শিবিরের দিকে। ফলে কলকাতা পুরভোটের আগে প্রার্থী বাছাই ঘিরে নতুন অস্বস্তিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালের পুরভোটে জয়ী তৃণমূলের ১৩৭ জন প্রাক্তন কাউন্সিলরের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৩৭ জনও ফের দলের হয়ে লড়াইয়ের আগ্রহ দেখাননি বলে দাবি। বিদায়ী কাউন্সিলরদের একাংশের বক্তব্য, আগের মতো আর্থিক সাহায্য নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার পরিস্থিতি নেই। নিজেদের সামর্থ্যেই ভোটের খরচ বহন করতে হবে। ফলে অনেকেই পিছিয়ে আসছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক পালাবদলের পর নিরাপত্তা ও মামলা-মোকদ্দমার আশঙ্কাও তাঁদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।
‘মমতা তৃণমূল’-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ক্ষমতার সঙ্গে থাকার প্রবণতায় অনেক প্রাক্তন কাউন্সিলর বিজেপির টিকিট পাওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার কেউ কেউ হামলা ও পুলিশি হেনস্তার আশঙ্কায় ভোটে দাঁড়াতে চাইছেন না।
অন্যদিকে বিজেপির ছবিটা সম্পূর্ণ বিপরীত। কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডে প্রার্থী হওয়ার জন্য রাজ্য দফতরের ড্রপবক্সে ইতিমধ্যেই পাঁচ হাজারের বেশি বায়োডাটা জমা পড়েছে। চলছে সেগুলির প্রাথমিক যাচাই। শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার, তাপস রায়, সজল ঘোষ ও রীতেশ তিওয়ারিদের কাছে আবেদনকারীদের ভিড় বাড়ছে। চিকিৎসক, আইনজীবী-সহ বিভিন্ন পেশার পরিচিত মুখও পদ্মের টিকিটের প্রত্যাশী।
এদিকে তৃণমূলের দুই প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিম আপাতত ভোটের লড়াইয়ে নেই। ফিরহাদ নিজেও জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি বা তাঁর মেয়ে প্রার্থী হচ্ছেন না। অন্যদিকে অতীন ঘোষ, সন্দীপ বক্সী, স্বপন সমাদ্দারদের মতো প্রাক্তন মেয়র পারিষদদেরও প্রার্থী হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিজেপির অন্দরে এখন শুধু প্রার্থী তালিকা নয়, সম্ভাব্য মেয়র এবং মেয়র পারিষদদের নাম নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের দাবি, কলকাতার অন্তত ১৮০টি ওয়ার্ডে জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পুরভোটের আগে তাই প্রশ্ন একটাই ক্ষমতার পালাবদলের পর কলকাতার পুর রাজনীতিতে কি সত্যিই বদলে যাচ্ছে আনুগত্যের ঠিকানা?





