কলকাতা, ২৪ অক্টোবরঃ নজরে কলকাতা পুরভোট। প্রার্থী হতে বিজেপির আবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তার মধ্যেই এনসিপিআইয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য জোটের জল্পনায় জল ঢেলে দিলেন বিজেপির কলকাতার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুকান্ত মজুমদার। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা, কলকাতা পুরসভার ২০৯টি ওয়ার্ডেই পদ্ম প্রতীকে লড়বে বিজেপি। শুধু জোট নয়, প্রার্থী বাছাইয়ের নীতি থেকে শুরু করে সম্ভাব্য মুখদের যোগদান সব প্রশ্নেই দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন তিনি। একই সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে ছুড়লেন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে সুকান্ত জানান, বিজেপির প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের ড্রপবক্সে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৬ অক্টোবর, সোমবার বিকেল ৫টা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা পড়া আবেদন খতিয়ে দেখেই প্রার্থী বাছাই করবে দল। তাঁর দাবি, প্রতি ওয়ার্ডে ইতিমধ্যেই প্রার্থী হতে অন্তত ১০ জন করে আবেদন করেছেন। অর্থাৎ, সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার মতো আগ্রহী মুখ দলের হাতে রয়েছে বলেই দাবি বিজেপি নেতৃত্বের।
প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা-ও স্পষ্ট করেছেন সুকান্ত। তাঁর কথায়, দলের কার্যকর্তা ও কর্মীদের পাশাপাশি সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিধানসভা ভোটের আগে দলের দুর্দিনে যাঁরা পাশে ছিলেন, তাঁদেরও বিবেচনায় রাখা হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীর ভাবমূর্তি কেমন, তা-ও খতিয়ে দেখবে দল। জেলা থেকে রাজ্যস্তরের নেতা, বিধায়ক ও সাংসদদের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত হবে প্রার্থী তালিকা।
তবে প্রার্থী তালিকায় তৃণমূলের কোনও পরিচিত মুখ জায়গা পেতে পারেন কি না, সেই প্রশ্নে সরাসরি দরজা বন্ধ করেননি বিজেপির এই নেতা। সুকান্তর বক্তব্য, “রাজনীতি মানে সম্ভাবনা। এখানে নির্দিষ্ট কোনও পথ নেই।” ফলে একদিকে পুরনো কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা, অন্যদিকে সম্ভাবনার দরজা খোলা রাখার মন্তব্য দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা স্পষ্ট।
এনসিপিআইয়ের সঙ্গে জোটের জল্পনা উড়িয়ে সুকান্তর দাবি, ২০৯টি ওয়ার্ডেই বিজেপি এককভাবে লড়বে। এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে তাঁর মন্তব্য, “রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আগে নিজের বুথে জিতে দেখান।” আরও কটাক্ষ, “আগে ঘর সামলান, তারপর বিজেপিকে দেখতে আসবেন।”
পুরভোটের লড়াই এখনও প্রার্থী ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছয়নি। তার আগেই আসনভিত্তিক প্রস্তুতি, প্রার্থী বাছাইয়ের মানদণ্ড এবং রাজনৈতিক আক্রমণ তিন দিক থেকেই প্রচারের সুর চড়াতে শুরু করল বিজেপি।





