শিলিগুড়ি, ২৪ অক্টোবরঃ রাত পোহালেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। তার আগে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় জমে উঠেছে শিলিগুড়ির বাজার। বিধান রোড থেকে হাসপাতাল মোড় শহরের বিভিন্ন বাজারে সকাল থেকেই ক্রেতাদের আনাগোনা। কোথাও সারি দিয়ে সাজানো লক্ষ্মীপ্রতিমা, কোথাও ফুল-ফল ও পুজোর উপকরণের পসরা। আবার নাড়ু, মোয়া থেকে নানা রকম রেডিমেড সামগ্রীর দোকানেও ভিড় চোখে পড়ছে। তবে উৎসবের বাজারে বিক্রির ছবিটা সর্বত্র এক নয়। প্রতিমা ও তৈরি মিষ্টির দোকানে বিক্রির আশা থাকলেও ফুলের চড়া দামে কিছুটা ম্লান ব্যবসায়ীদের মুখ।
লক্ষ্মীপুজোর অন্যতম আকর্ষণ প্রতিমা। তাই পছন্দের লক্ষ্মীকে ঘরে নিয়ে যেতে বাজারে ভিড় করছেন ক্রেতারা। মৃৎশিল্পীদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এ বার প্রতিমা তৈরির কাঁচামালের দাম বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে বিক্রির দাম বাড়ানো সম্ভব হয়নি। তবু বিক্রির বিষয়ে আশাবাদী তাঁরা। ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা, লক্ষ্মীপুজোর প্রতিমার বড় অংশই বিক্রি হয় শেষ মুহূর্তে। সন্ধ্যার পর ক্রেতার সংখ্যা আরও বাড়বে, এমনটাই আশা তাঁদের। সেই ভরসাতেই পর্যাপ্ত প্রতিমা নিয়ে বাজারে বসেছেন শিল্পীরা।
ফুলের বাজারে অবশ্য কিছুটা ভিন্ন ছবি। বিক্রেতাদের বক্তব্য, এ বছর ফুলের দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতাই প্রয়োজনের তুলনায় কম ফুল কিনছেন। কেউ কেউ দাম শুনে কেনাকাটা থেকে পিছিয়েও যাচ্ছেন। ফলে লক্ষ্মীপুজোর মতো ফুলের চাহিদার সময়ে প্রত্যাশামতো বিক্রি হচ্ছে না বলে দাবি ব্যবসায়ীদের একাংশের। পুজোর আগে শেষ কয়েক ঘণ্টায় বিক্রি বাড়বে কি না, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।
অন্য দিকে, ব্যস্ত জীবনে পুজোর প্রস্তুতি সহজ করতে অনেকেই ভরসা রাখছেন রেডিমেড নাড়ু, মোয়া ও অন্যান্য উপকরণে। বাড়িতে সময় নিয়ে সব কিছু তৈরি করা সম্ভব না হওয়ায় দোকান থেকেই প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে নিচ্ছেন অনেকে। ফলে তৈরি মিষ্টি ও পুজোর উপকরণের দোকানগুলিতে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে।
সব মিলিয়ে লক্ষ্মীপুজোর আগে শিলিগুড়ির বাজারে উৎসবের আমেজ স্পষ্ট। তবে চড়া দামের প্রভাবও এড়ানো যাচ্ছে না। কোথাও বিক্রির আশায় হাসি ফুটেছে ব্যবসায়ীদের মুখে, কোথাও আবার ক্রেতার অনীহায় কিছুটা ম্লান বাজার। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামলে শেষ দফার কেনাকাটায় বাজারের ছবিটা কতটা বদলায়, এখন সেটাই দেখার।





