কলকাতা, ১৪ জুলাইঃ দলের প্রতীক, তহবিল এবং সাংগঠনিক বৈধতার লড়াই এবার পৌঁছে গেল নির্বাচন কমিশনের দরজায়। আর সেই লড়াইয়ে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই সরাসরি প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের সচিবকে পাঠানো চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, দুই পক্ষের জমা দেওয়া নথি ও তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক। একই সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরকে অতিরিক্ত সময় ও বিশেষ সুবিধা না দেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন।
কালীঘাট শিবিরের অভিযোগ, কমিশন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তারা সমস্ত নথি জমা দিলেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের আবেদনে সাড়া দিয়ে আরও ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী, ২৬ জুলাই পর্যন্ত নথি জমা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে বিদ্রোহী শিবির। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মমতা শিবির।
সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে বিষয়টি আরও প্রকাশ্যে আনেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং সাগরিকা ঘোষ। তাঁদের দাবি, নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষকেই ৬ জুলাইয়ের মধ্যে নিজেদের বক্তব্য ও নথি জমা দিতে বলেছিল। কালীঘাট শিবির সেই নির্দেশ মেনেই নথি জমা দিয়েছে। কিন্তু পরে একতরফাভাবে অন্য পক্ষকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে, যা কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
মহুয়ার আরও অভিযোগ, “বিদ্রোহী শিবিরের জবাব এখনও আমাদের হাতে পৌঁছয়নি। অথচ আমাদের জমা দেওয়া নথি কীভাবে প্রতিপক্ষের কাছে পৌঁছে গেল?” তাঁর এই মন্তব্যে তদন্ত প্রক্রিয়ার গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সাংবাদিক বৈঠকে সাগরিকা ঘোষ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়েও সরব হন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলগুলিকেই বেছে বেছে নিশানা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কমিশনের কাছে অতিরিক্ত সময় চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেনি। ঋতব্রতের বক্তব্য, আইনজীবীর মাধ্যমে কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া হয়েছে। কমিশন যদি আরও তথ্য চায়, তাও একই প্রক্রিয়ায় পাঠানো হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আলিপুর আদালতের সাম্প্রতিক রায়ে ‘আসল’ তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর সেই রায়কে হাতিয়ার করেই নির্বাচন কমিশনের কাছেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে ঋতব্রত শিবির। অন্যদিকে, কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে কালীঘাট শিবির। ফলে আদালতের পর এবার কমিশনের সিদ্ধান্তই ঠিক করবে, দলীয় প্রতীক, তহবিল এবং সাংগঠনিক স্বীকৃতির লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসবে কোন পক্ষ।





