নিজস্ব সংবাদদাতা, শীতলকুচি: আবাস যোজনার ঘর মিলেছে। কিন্তু সেই ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া হয়েছে এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল শীতলকুচির ধরলার পার এলাকা। সোমবার স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য আজিজুল হকের বাড়ির সামনে বিক্ষোভে সামিল হন আবাস যোজনার একাধিক উপভোক্তা। কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে স্লোগান তোলেন তাঁরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সরকারি আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে উপভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও সেই অর্থ ফেরত মেলেনি। অভিযোগ, বারবার জানিয়েও কোনও সুরাহা না হওয়ায় এ দিন ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে টাকা ফেরতের দাবি তোলেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শুধু আবাস যোজনা নয়, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, সরকারি প্রকল্পে সুবিধা পেতে কোনও টাকা দেওয়ার নিয়ম নেই। তাই যাঁদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে সেই টাকা ফেরত দিতে হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপও দাবি করেন তাঁরা।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপির বুথ নেতৃত্ব রতন পালের দাবি, “আবাস যোজনা-সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পের নামে টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে। সেই অর্থ ফেরতের দাবিতেই সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে নেমেছেন। আমরা তাঁদের ন্যায্য দাবির পাশে রয়েছি।”
অন্য দিকে, অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য আজিজুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর পরিবারের এক সদস্য জানান, অভিযোগের বিষয়টি তাঁদের জানা নেই। বিষয়টি পঞ্চায়েতকে জানানো হবে বলেও তিনি জানান। ফলে অভিযোগের বিষয়ে পঞ্চায়েত সদস্যের সরাসরি প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
সরকারি প্রকল্পকে ঘিরে কাটমানির অভিযোগ নতুন নয়। তবে উপভোক্তাদের সরাসরি পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ির সামনে বিক্ষোভে নামা ঘটনাটিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রশাসন কোনও তদন্ত শুরু করে কি না, এখন সেদিকেই নজর।
আবাসের ছাদ পেয়েছেন বলে দাবি উপভোক্তাদের। কিন্তু সেই ছাদের মূল্য যদি কাটমানি হয়ে থাকে, তবে তার হিসাবও চাইছেন তাঁরা। ধরলার পারে এখন সেই প্রশ্নই সবচেয়ে জোরালো।





