কলকাতা, ৩ জুন: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা টানাপোড়েন এবং বিদ্রোহের আবহের মধ্যেই বুধবার নবান্নে এক বিরল রাজনৈতিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির হলেন তৃণমূলের তথাকথিত ‘বিদ্রোহী’ এবং ‘মমতাপন্থী’ উভয় শিবিরের বিধায়করা।
বুধবার কলকাতা, হাওড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় নবান্নে। মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের বিধায়কদেরও এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান। এর আগেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ শিবির জানিয়ে দিয়েছিল যে তারা বৈঠকে যোগ দেবে। সেই অনুযায়ী বিধানসভায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার পর বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়করা নবান্নে পৌঁছান।
তবে রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে অন্য একটি বিষয়। দেখা যায়, একদিন আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না মঞ্চে উপস্থিত থাকা এবং এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে বিদ্রোহী শিবিরে না-যাওয়া একাধিক তৃণমূল বিধায়কও নবান্নের বৈঠকে যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম-সহ আরও অনেকে।
ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন কি বাস্তবে ততটা গভীর, যতটা রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে? নাকি প্রশাসনিক বিষয়কে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে রাখতেই এই উপস্থিতি?
নবান্নে ঢোকার সময় কুণাল ঘোষ বলেন, “আমি একজন নির্বাচিত বিধায়ক। মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছেন। তাই বিরোধী দলের একজন বিধায়ক হিসেবে এসেছি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে পালাবদলের পর এই প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী শিবিরের বিধায়কদের এত বড় উপস্থিতি নজর কেড়েছে। একই সঙ্গে তৃণমূলের দুই শিবিরের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে উপস্থিতি আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।





