শিলিগুড়ি, ১৯ মেঃ দেশের নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো, কাঁটাতার নির্মাণ এবং অনুপ্রবেশ রুখতে একাধিক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। এবার উত্তরবঙ্গের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল সরকার। জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি করিডরের প্রায় ১২০ একর জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার।
সূত্রের খবর, এই জমি দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সংস্থার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বিষয়টি আটকে ছিল বলে অভিযোগ। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র নির্দেশে সেই জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
উল্লেখ্য, চিকেনস নেক ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা একটি সরু করিডর। এই অঞ্চল ঘিরে রয়েছে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ এবং চিন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এলাকাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে মনে করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির দাবি, অস্ত্র পাচার, জাল নোট, মাদক এবং অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে এই করিডরকে ব্যবহার করার চেষ্টা চালায় বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন ও চক্র।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-ও চিকেনস নেকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তৎকালীন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, “টুকরে টুকরে গ্যাং চিকেনস নেক ভাঙার ছক কষছে, আর সেই চক্রকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।” বিজেপি ক্ষমতায় এলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু জমি হস্তান্তর নয়, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের অধীনে থাকা সাতটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক ন্যাশনাল হাইওয়ে কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাসিমারা–জয়গাঁও হয়ে ভারত-ভুটান সীমান্ত পর্যন্ত রাস্তা, বারাদিঘি–ময়নাগুড়ি–চ্যাংরাবান্ধা হয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত অংশ এবং শিলিগুড়ি থেকে কার্শিয়াং ও দার্জিলিং পর্যন্ত সড়কপথ।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই রাস্তার উন্নয়ন সম্পূর্ণ হলে সীমান্ত এলাকায় সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর যাতায়াত আরও দ্রুত হবে। পাশাপাশি রেশন, সরঞ্জাম ও সামরিক উপকরণ দ্রুত সীমান্ত ঘাঁটিতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। সবমিলিয়ে চিকেনস নেকের নিরাপত্তা ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের এই যৌথ উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।





