ফলতা, ১৯ মেঃ আগামী বৃহস্পতিবার ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচন। মঙ্গলবার শেষ দিনের প্রচারে যখন বিজেপি ও বাম শিবির জোরকদমে মাঠে নেমেছে, তখন কার্যত প্রচারের ময়দান থেকে উধাও তৃণমূল কংগ্রেস। বিশেষ করে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কে কোথাও দেখা না যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এই আবহেই তাঁকে তীব্র কটাক্ষ করলেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী।
এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে সুজন লেখেন, “৮ লাখ ভোটে জেতা সাংসদ এখন কোথায়? পিসির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন নাকি?” তাঁর অভিযোগ, ফলতা নির্বাচনে বিজেপি ও বামেরা রাস্তায় নেমে প্রচার চালালেও তৃণমূলের কোনও কার্যকর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। এমনকি সামাজিক মাধ্যমেও ফলতা নির্বাচন নিয়ে কোনও মন্তব্য বা প্রচার করেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় তৃণমূলের প্রধান মুখ হিসেবেই পরিচিত অভিষেক। গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে প্রায় ৮ লক্ষ ভোটে জয় পেয়েছিলেন তিনি। সেই সময় ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়েও ব্যাপক প্রচার হয়েছিল। বিধানসভা নির্বাচনের আগেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সব আসনে তৃণমূলের জয়ের দাবি করেছিলেন তিনি। কিন্তু নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, গোটা রাজ্যের পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। বিজেপি বিপুল জনাদেশ পেয়ে বাংলায় সরকার গঠন করেছে।
এই পরিস্থিতিতে ফলতার পুনর্নির্বাচন ঘিরে অভিষেকের নীরবতা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিরোধীদের দাবি, ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই কার্যত আড়ালে চলে গিয়েছেন তিনি। যদিও তৃণমূলের তরফে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার ফলতা রাজনীতিতে আরও নাটকীয় মোড় আসে। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান সাংবাদিক বৈঠক করে ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র ভূয়সী প্রশংসা করেন। জাহাঙ্গির বলেন, ফলতার উন্নয়ন ও শান্তির স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই ফলতার সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “জাহাঙ্গিরকে আমার উপর ছেড়ে দিন।” তার কয়েকদিনের মধ্যেই জাহাঙ্গিরের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধীদের কটাক্ষ, “যে বাহুবলি একসময় বলেছিলেন ‘পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি’, তিনিই এখন ভোটের ময়দান ছেড়ে সরে দাঁড়ালেন।”সবমিলিয়ে ফলতা পুনর্নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে।





