খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২০ ফেব্রুয়ারিঃ হুগলির বলাগড়ে ছেলেধরা সন্দেহে মা-মেয়েকে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল চুঁচুড়া আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট। গতকাল, বৃহস্পতিবার ২৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করার পর শুক্রবার বিচারক পীযূষকান্তি রায় দু’জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও বাকি ২৩ জনকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। মুখ্য সরকারি আইনজীবী শংকর গঙ্গোপাধ্যায় জানান, একটি মামলায় একসঙ্গে ২৫ জনের সাজা এটি নিঃসন্দেহে দৃষ্টান্তমূলক।
ঘটনাটি ঘটে ২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি হুগলির বলাগড়ের আসানপুর গ্রামে। সেদিন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়-এর এক অধ্যাপকের স্ত্রী রঞ্জবালা ঘোষ ও মেয়ে অপর্ণা ঘোষ পরিচারিকার খোঁজে সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁদের গাড়ির চালক ছিলেন বিশ্বনাথ মণ্ডল। গ্রামে অচেনা লোক দেখে আচমকাই ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে গ্রামবাসীরা তাঁদের গাড়ি ঘিরে ধরে মারধর শুরু করে। অভিযোগ, গাড়িতে আগুন লাগিয়ে মা-মেয়ে ও চালককে পুড়িয়ে মারার চেষ্টাও করা হয়।
খবর পেয়ে বলাগড় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশকেও আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় ১১ জন পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার আহত হন। তাঁদের মধ্যে সিভিক ভলান্টিয়ার অখিলবন্ধু ঘোষ তিরবিদ্ধ হন। আহতদের প্রথমে বলাগড় ব্লক হাসপাতালে এবং পরে গুরুতরদের কল্যাণী ও এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
ঘটনার পর স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে বলাগড় থানা। তদন্তকারী অফিসার অলোককুমার চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ওই বছরের ৯ জুন ৫ মহিলা-সহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ২০২১ সালের ২০ এপ্রিল মামলার চার্জগঠন হয়। বিচারপ্রক্রিয়ায় গ্রামবাসী, চিকিৎসক, পুলিশ ও আক্রান্ত মিলিয়ে মোট ২৭ জন সাক্ষ্য দেন। মামলার সরকারি আইনজীবী ছিলেন জয়ন্ত সাহা।
রায়ে গোপাল রায় ও পূর্ণিমা মালিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৩ জনের ৭ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়। এই রায় ছেলেধরা গুজবকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সহিংসতার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা হিসেবে দেখছেন আইনজীবীরা। আদালতের এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন আইনের শাসনের পুনর্ব্যক্তি হল, তেমনি গুজব-নির্ভর জনরোষের ভয়াবহ পরিণতির কথাও আবার সামনে এল।





