কলকাতা, ২৩ জুলাইঃ বুধবারের উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের সরগরম বিধানসভা। স্পিকার রথীন্দ্র বোসের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ালেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। অধিবেশন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ‘কলঙ্কজনক’ শব্দকে কেন্দ্র করে শাসকদলের একাংশ ও স্পিকারের মধ্যে নতুন করে অস্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এ দিন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় আগের দিনের ঘটনাপ্রসঙ্গ তুলতে চাইলে স্পিকার বলেন, ‘‘গতকালের ঘটনা অত্যন্ত কলঙ্কজনক। তা নিয়ে আজ আর কোনও আলোচনা হবে না।’’ এই মন্তব্যের পরই নিজের আসন ছেড়ে স্পিকারের আসনের সামনে গিয়ে আপত্তি জানান কুণাল ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, বিধানসভায় ওয়াকআউট, বাদানুবাদ বা মার্শাল ডেকে সদস্যকে বের করে দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়, তা হলে শুধু বুধবারের ঘটনাকেই কেন ‘কলঙ্কজনক’ বলা হল?
স্পিকার কুণালকে নিজের আসনে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি কিছুক্ষণ নিজের বক্তব্যে অনড় থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্শালরাও এগিয়ে আসেন। যদিও বুধবারের মতো তাঁকে এ দিন আর অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়নি। পরে তিনি নিজের আসনে ফিরে যান। তবে অধিবেশনের বিভিন্ন সময়ে তাঁকে বারবার প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়। বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গেও তৃণমূল সদস্যদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। বিজেপি বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারির সঙ্গে কুণালের কথাকাটাকাটিও নজর কাড়ে।
অধিবেশন শেষে সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল স্পিকার এবং দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান উভয়েরই সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, দলের পক্ষ থেকে বক্তার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি বিজেপিকেও কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, শক্তিশালী বিরোধী কণ্ঠস্বরকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। স্পিকার প্রসঙ্গে কুণালের মন্তব্য, ‘‘রথীনবাবু ভদ্রলোক। কিন্তু যা হচ্ছে, তা ওঁর স্পিকার হিসেবে ভাবমূর্তির পক্ষেও সুখকর নয়।’’





