কলকাতা, ৮ নভেম্বরঃ মাদকমুক্ত বাংলা গড়ার লক্ষ্যে কড়া পদক্ষেপের বার্তা রাজ্য প্রশাসনের। শুধু মাদক উদ্ধার বা কারবারিদের গ্রেপ্তার নয়, বেআইনি মাদক ব্যবসার শিকড় উপড়ে ফেলতে একযোগে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ও প্রশাসন। বালুরঘাটে গিয়ে নিজে হাতে মাদক নষ্ট করার কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ বার সমাজমাধ্যমে অভিযানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মাদক কারবারের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানালেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর এই আট দিনে রাজ্যে ১০১ কোটি টাকা মূল্যের মাদক নষ্ট করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার হয়েছে আরও ৬৪ কোটি টাকার মাদক। এই সময়ের মধ্যে মাদক সংক্রান্ত ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩৭৮ জন। অর্থাৎ, শুধু মাদক বাজেয়াপ্ত করেই দায়িত্ব শেষ করছে না প্রশাসন। উদ্ধার হওয়া মাদক ধ্বংস করার পাশাপাশি কারবারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
প্রশাসনের নজর রয়েছে বেআইনি গাঁজা চাষের উপরেও। বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ বিঘা জমির গাঁজা চাষ নষ্ট করা হয়েছে। যার পরিমাণ আনুমানিক ১০ হাজার কেজি। এই বেআইনি চাষের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ১১০ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মাদক কারবারের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তির উপরেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে মাদকবিরোধী লড়াইকে কেবল পুলিশি অভিযান বা ধরপাকড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার। মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে রাজ্য জুড়ে ২১৫টি মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে মাদকের নেশা থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখা এবং সমাজে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বার্তা, অবৈধ মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কোনও আপস নয়। পরিসংখ্যানের এই বিপুল অঙ্ককে সামনে রেখে প্রশাসনের দাবি, অভিযান, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং জনসচেতনতা তিনটি পথেই মাদকমুক্ত বাংলা গড়ার চেষ্টা চলছে। এখন দেখার, এই ধারাবাহিক অভিযান কতটা কার্যকর ভাবে মাদক কারবারের বিস্তার রুখতে পারে।







