কলকাতা, ৮ নভেম্বরঃ সরিষায় তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতর এবার পৌঁছল লালবাজারে। উদ্ধার হওয়া টাকা ‘প্লান্টেড’ বলে অভিযোগ করেছিলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি ডায়মন্ড হারবার থানার আইসির গাড়ি করে ওই টাকা পার্টি অফিসে নিয়ে গিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। সাংসদের সেই বক্তব্যের বিরুদ্ধেই এবার কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের দ্বারস্থ হল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা।
সংগঠনের তরফে লালবাজারের সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পোস্টের লিঙ্কও জমা দেওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠন।
হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি ড. চন্দ্রচূড় গোস্বামীর অভিযোগ, অভিষেকের এই বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মনগড়া। তাঁর দাবি, এ ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে রাজ্য পুলিশের ভাবমূর্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হচ্ছে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস তৈরির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী বৈধতা নিয়েও লাগাতার প্রশ্ন তুলছেন অভিষেক। হিন্দু মহাসভার মতে, এ ধরনের বক্তব্য সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি অসম্মানজনক। এর ফলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সামাজিক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও অভিযোগ সংগঠনের।
সংগঠনের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, এ ধরনের বক্তব্যের জেরে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে তার দায় অভিষেককেই নিতে হবে। তাই শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, সংশ্লিষ্ট পোস্টের সত্যতা, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং তার নেপথ্যে থাকা উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখার আর্জি জানানো হয়েছে পুলিশের কাছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিল হিন্দু মহাসভা। সরিষার টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে নতুন অভিযোগে এবার রাজনৈতিক বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রয়েছে। তবে অভিষেকের বক্তব্য এবং হিন্দু মহাসভার অভিযোগ দু’টিরই সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।







