শীতলকুচি, ২৯ জুলাইঃ এক বছর আগে এই মন্দির চত্বরে পুজো ঘিরে তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক বিতর্ক। গুরু পূর্ণিমার দিন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন তৎকালীন বিজেপি বিধায়ক বরেন বর্মন। এক বছর পর, বদলে গিয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ। আর সেই একই গোসাইরহাট কালী মন্দিরে দাঁড়িয়েই নাম না করে তৃণমূলকে বার্তা দিলেন তিনি “ওদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক।”
বুধবার গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে গোসাইরহাট কালী মন্দিরে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। মা কালীর পুজো দিতে সেখানে পৌঁছন বরেন বর্মন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক। পুজো শেষে সকলের শান্তি, সম্প্রীতি ও মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করা হয়। পরে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদও বিতরণ করা হয়।
পুজোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গত বছরের ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন বরেন বর্মন। তাঁর দাবি, তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে গুরু পূর্ণিমার দিন এই মন্দিরে পুজো দিতে এসে তাঁকে হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছিল। সেই স্মৃতি ফিরিয়ে এনে এ দিন তিনি বলেন, “ওদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। ভুল শুধরে নিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখুক।” যদিও কাউকে নাম করে আক্রমণ করেননি তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির মণ্ডল সভাপতি পবিত্র অধিকারী, কনকচন্দ্র বর্মন-সহ দলের একাধিক নেতা। তাঁদের বক্তব্য, গুরু পূর্ণিমা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, ভারতীয় সংস্কৃতির গুরু-শিষ্য পরম্পরার প্রতীক। সেই ঐতিহ্য থেকেই সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।
একই কালী মন্দির, একই গুরু পূর্ণিমা, একই বরেন বর্মন। তবে এক বছরের ব্যবধানে বদলে গিয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক পটভূমি। আর সেই পরিবর্তিত আবহেই গত বছরের হেনস্থার স্মৃতি ফিরিয়ে শান্তির বার্তা ও রাজনৈতিক কটাক্ষ দু’টিকেই পাশাপাশি রেখে গেলেন প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক।





