কলকাতা, ৬ আগস্ট: দীর্ঘদিন পর ফের উন্মুক্ত হল ময়দানের এলিয়ট পার্কের সবুজ। কয়েক বছর ধরে উঁচু টিনের বেড়ায় ঘেরা থাকায় চৌরঙ্গি রোড থেকে কার্যত আড়ালেই ছিল পার্কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সেই টিনের বেড়া সরিয়ে দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে ‘আগে’ ও ‘পরে’-র ছবি তুলে ধরে কলকাতা পুরসভাকে ধন্যবাদ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে নাম না করেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না তিনি।
সমাজমাধ্যমে করা পোস্টে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগের সরকারের আমলে এলিয়ট পার্ককে সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে রাখতে উঁচু টিনের বেড়া দেওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, প্রাক্তন সরকারের ‘মাননীয়া’ সেখানে হাঁটতে আসতেন বলেই পার্কের সৌন্দর্য জনসাধারণের দৃষ্টি থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। বর্তমান প্রশাসনের উদ্যোগে সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “ময়দানের এলিয়ট পার্কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সবুজ ও মনোরম দৃশ্য এতদিন চৌরঙ্গি রোডের দিক থেকে উঁচু টিনের বেড়া দিয়ে সম্পূর্ণভাবে সাধারণ মানুষের থেকে আড়াল করে রাখা হয়েছিল। কারণ সেখানে প্রাক্তন সরকারের মাননীয়া হাঁটার সময় যাতে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি না পড়ে। এলিয়ট পার্কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সবুজের মনোরম দৃশ্য আজ আবার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।”
এর পরেই কলকাতা পুরসভার ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। টিনের বেড়া সরিয়ে পার্ককে আগের রূপে ফিরিয়ে আনার জন্য পুর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লেখেন, “জনগণের সম্পদ, জনগণের জন্যই উন্মুক্ত থাকুক।” তাঁর মতে, শহরের উন্মুক্ত সবুজ এবং জনপরিসর কোনও বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, তা সকলের ব্যবহারের জন্যই সংরক্ষিত থাকা উচিত।
এলিয়ট পার্ককে ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। যদিও এ বিষয়ে প্রাক্তন শাসকদলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, পার্কের বেড়া সরানোর সিদ্ধান্ত যেমন নগর সৌন্দর্যায়নের অংশ, তেমনই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। ফলে এলিয়ট পার্কের সবুজ ঘিরে আবারও রাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।





