খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৪ জানুয়ারি: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যে ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা, মোতায়েন ও নিয়ন্ত্রণ এই সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েই সোমবার দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক(CEO)। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চূড়ান্ত করতেই এই বৈঠক। আলোচনার মূল বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে ভোটে কত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে, কোন কোন এলাকায় বাহিনী থাকবে, কীভাবে বাহিনী ব্যবহার করা হবে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। রাজ্য পুলিশের অধীনে বাহিনী থাকবে, নাকি মাইক্রো অবজারভারদের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী সরাসরি কাজ করবে এই প্রশ্নেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সোমবার, ৫ জানুয়ারি এই বিষয়ে শেষ ছাড়পত্র মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্যে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হলেও ভোটের দিনে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছিল। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, বাহিনী বুথের বাইরে বা রাস্তায় টহল দিয়েছে, কিন্তু বুথের ভিতরে কার্যত কোনও নজরদারি ছিল না। এমনকি কোথাও কোথাও বাহিনী ‘রিল্যাক্স’ মুডে ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, বুথের ভিতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী না থাকার কারণেই ভোট লুঠ হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বাহিনী যথেষ্ট সংখ্যায় এলেও তারা বুথের ভিতরে প্রবেশ না করে বাইরে দাঁড়িয়ে থেকেছে।
এই অভিজ্ঞতার পরেই এবার নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বাড়তি নজরদারি শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ছাব্বিশের ভোটে কি সত্যিই বুথের ভিতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে? ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়ায় বাহিনীকে কতটা সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে।
এবারের বিধানসভা ভোট আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণে। SIR প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর সংশোধিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী এই প্রথম ভোট হতে চলেছে রাজ্যে। ফলে ভোটার যাচাই ও স্ক্রুটিনি নিয়েও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হতে পারে। ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েই তালিকা ধরে ধরে যাচাই হবে কি না এবং সেই দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর পড়বে কি না এই প্রশ্নও উঠছে।
সব মিলিয়ে, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অবস্থান, ক্ষমতা ও ভূমিকা কী হবে, তার স্পষ্ট দিশা মিলতে পারে সোমবারের বৈঠক থেকেই।





