খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৮ জানুয়ারিঃ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ফের চর্চায় বিধানসভা ভোটের দফা সংখ্যা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন কত দফায় হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। অতীতে যেখানে বেশি দফায় ভোট করানোর দাবিতে সরব ছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সেখানে এবার উল্টো ছবি। অদ্ভুতভাবে ভোটের দফা কমানো নিয়ে একই সুর শোনা যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির গলায়।
২০০৫ সাল থেকেই বাংলায় ভোটের দফা নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে। ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৎকালীন তৃণমূল নেতা মুকুল রায় দাবি করেছিলেন, বাংলায় যত বেশি দফায় সম্ভব ভোট হোক। ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের’ নির্বাচনেও সাত দফায় ভোটের দাবি উঠেছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত ছ’দফাতেই ভোট হয়। তার পরবর্তী ২০১৬ ও ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটেও বহু দফায় ভোট করানো হয়, বিশেষ করে ২০২১ সালে হয়েছিল আট দফায় ভোট, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস।
কিন্তু সময় বদলেছে। এবার রাজ্য বিজেপির দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, বাংলায় বিহারের মতোই কম দফায় ভোট করানোর পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। যুক্তি হিসেবে বিজেপির বক্তব্য, বেশি দফায় ভোট হলে শাসক দল সুবিধা পায়। যেখানে ভোট হয়ে যায়, সেখান থেকে ক্যাডার অন্য এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কর্মীদের মাঠে ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে, ক্লান্তি আসে।
এই ভাবনার সঙ্গে খুব একটা ভিন্ন মত নেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (CEO) দফতরেরও। সূত্রের খবর, কমিশনের একাংশ মনে করছে, সাত-আট দফায় ভোট করানো অহেতুক ঝক্কি। এতে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াতে বাধ্য হয়। অথচ দফা বাড়িয়েও ভোটে ছাপ্পা বা বুথ দখলের মতো অভিযোগ পুরোপুরি ঠেকানো যায়নি। তাই দুই থেকে তিন দফায় ভোট করানোই যুক্তিযুক্ত বলে মত কমিশনের অন্দরে।
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে খুব সাবধানী। ২০২১ সালে আট দফার ভোটকে বিজেপির চক্রান্ত বলে আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এবার দফা কমানোর আলোচনায় প্রকাশ্যে আপত্তি তোলার জায়গা নেই বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তৃণমূল শিবিরে এখন বক্তব্য ভোট কত দফায় হবে, তা কমিশনই ঠিক করবে।
ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা নিয়েও চলছে জল্পনা। ২০১৬ সালে ৫ মার্চ এবং ২০২১ সালে ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোট ঘোষণা হয়েছিল। সেই হিসাবে এ বছরও ফেব্রুয়ারির শেষ বা মার্চের শুরুতে ঘোষণা হওয়ার কথা। তবে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতার কারণে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পিছোতে পারে। সেক্ষেত্রে ভোট ঘোষণা মার্চের গোড়ায় হলে আশ্চর্য নয়। সাধারণত ভোট ঘোষণার এক মাস পর প্রথম দফার ভোট হয়। ফলে এপ্রিলের শুরুতেই ভোট শুরু হয়ে গেলে এবং দুই দফায় ভোট হলে, এপ্রিলের মধ্যেই ফল প্রকাশের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক মহলের একাংশ।





