কলকাতা, ১৩ জুলাইঃ একুশে জুলাইয়ের আগে ধর্মতলা নিয়ে নতুন সংঘাত। যে ভিক্টোরিয়া হাউস চত্বরে বছরের পর বছর ‘শহিদ দিবস’ পালন করেছে তৃণমূল, সেই জায়গাতেই টানা ৬০ দিনের জমায়েত নিষেধাজ্ঞা কেন এই প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হল কালীঘাট তৃণমূল। আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে পুলিশের জারি করা নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে তারা। বুধবার মামলার শুনানির সম্ভাবনা।
সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে কালীঘাট তৃণমূলের আবেদন গ্রহণ করা হয়। দলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের পক্ষে সওয়াল করেন সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ২ জুলাই থেকে ৩০ অগস্ট পর্যন্ত ভিক্টোরিয়া হাউস-সহ মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করে চার বা তার বেশি জনের জমায়েত নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী। বিশেষ করে, ওই সময়ের মধ্যেই রয়েছে ২১ জুলাই তৃণমূলের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের ভাঙনের জেরে এ বছর আলাদা কর্মসূচির পথে ঋতব্রত শিবির এবং কালীঘাট শিবির। দুই পক্ষই ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানের জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছিল। তবে ধর্মতলায় কর্মসূচির অনুমতি না দিয়ে বিকল্প জায়গার কথা জানায় পুলিশ। পরে ঋতব্রতপন্থীরা গান্ধীমূর্তির পাদদেশে সভার অনুমতি পেয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। কিন্তু কালীঘাট তৃণমূলের কর্মসূচি কোথায় হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই আবহেই ভিক্টোরিয়া হাউস চত্বরে দীর্ঘ ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট শিবির। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আড়ালে রাজনৈতিক কর্মসূচির পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই ওই এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। ফলে একুশে জুলাই ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের রেশ এ বার আদালতের এজলাসেও পৌঁছে গেল।





