দিল্লি, ২৭ জুলাইঃ নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও কেন্দ্রকে একচুলও ছাড় দিতে নারাজ বিরোধীরা। বরং আন্দোলনের এই সাফল্যকে হাতিয়ার করেই সংসদের ভিতরে-বাইরে মোদী সরকারকে আরও চাপে ফেলতে নতুন কৌশল নিয়েছে কংগ্রেস-সহ বিরোধী শিবির। এবার তাদের মূল নিশানায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রশ্ন উঠেছে, গত ২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ অভিযানে অংশ নেওয়া নিরস্ত্র পড়ুয়াদের উপর পেলেট গানের ব্যবহার কি তাঁর নির্দেশেই হয়েছিল?
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে অমিত শাহকে খোলা চিঠি লিখেছেন। ২৫ জুলাই লেখা সেই চিঠি রবিবার সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করে রাহুল অভিযোগ করেন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর ‘বর্বরোচিত’ হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, দিল্লি পুলিশ যদি সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে কাজ করে, তা হলে পেলেট গানের নির্দেশ কে দিয়েছিল? একই সঙ্গে সাধারণ পোশাকে আন্দোলনকারীদের মারধর করা ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
রাহুলের দাবি, গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিবাদকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। অথচ আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও প্রকাশ্যে পড়ুয়াদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি তাঁর।
সংসদীয় সূত্রের খবর, সোমবার প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর শাস্তির বিধান-সহ সংশোধনী বিল পেশের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় থেকেই সরকারকে ঘিরে ধরার পরিকল্পনা করেছে বিরোধীরা। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গের দফতরে বৈঠক করে এ দিনের রণকৌশল চূড়ান্ত হওয়ার কথা। তৃণমূলের সাগরিকা ঘোষ-সহ একাধিক বিরোধী সাংসদ যন্তর-মন্তরে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে সংসদে জরুরি আলোচনার দাবিতে মুলতুবি প্রস্তাবও জমা দিয়েছেন।
এদিকে প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পাশাপাশি অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামী চুরির অভিযোগকেও সংসদে নতুন রাজনৈতিক হাতিয়ার করতে চাইছে বিরোধীরা। দুই ইস্যুতেই সরকারকে প্রতিরক্ষায় ঠেলে দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে সংসদের অন্দরে।





