কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বরঃ জোড়াফুল প্রতীক কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে জল্পনা এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই রাজ্য বিধানসভায় নতুন করে চিঠি গেল তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের ১০ বিধায়কের কাছে। কেন তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়েছেন স্পিকার। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জবাব দেওয়ার কথা।
এই ১০ জনের তালিকায় রয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, সাবিনা ইয়াসমিন, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান আনসারি এবং শিউলি সাহা। তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আগেই জানিয়েছিলেন কালীঘাট শিবিরের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। জুলাইয়ে তিনি স্পিকারকে চিঠি দিয়ে ওই বিধায়কদের সদস্যপদ খারিজের আবেদন করেন।
বিধানসভা গঠনের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে প্রকাশ্যে আসে দ্বন্দ্ব। এক দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির, অন্য দিকে ঋতব্রত-সহ ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কদের গোষ্ঠী। রাজনৈতিক টানাপড়েনের সেই আবহেই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদে রয়েছেন ঋতব্রত।
এ বার সেই সংঘাতের আইনি-সাংবিধানিক পর্বও সামনে এল। সূত্রের খবর, সোমবার শোভনদেব সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলাও দায়ের করেছেন। সেখানে ওই ১০ বিধায়কের নাম রয়েছে এবং মামলায় স্পিকারকেও পক্ষ করা হয়েছে। তবে মামলাটি দায়েরের ক্ষেত্রে কিছু পদ্ধতিগত ত্রুটি রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
এরই মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন সামনে। সূত্রের খবর, ১৭ সেপ্টেম্বর তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ফলে একই দিনে এক দিকে বিধানসভার নোটিসের জবাব, অন্য দিকে প্রতীক নিয়ে কমিশনের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত দুই ঘটনাই নজরে রাখছে রাজনৈতিক মহল।
স্পিকার এত দিন পরে কেন নোটিস পাঠালেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। মহারাষ্ট্রের দলত্যাগ-বিরোধী মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গ টেনে রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, বিধানসভা যাতে পরবর্তী সময়ে কোনও আইনি প্রশ্নের মুখে না পড়ে, সেই কারণেই প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে নোটিসের সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক কারণ বিধানসভার তরফে আলাদা করে জানানো হয়নি।
সব মিলিয়ে জোড়াফুলের প্রতীক এবং বিধায়কদের সদস্যপদ দুই প্রশ্নেই এখন নজর কমিশন ও বিধানসভার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।





