কোচবিহার, ১৬ সেপ্টেম্বরঃ পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই উত্তরবঙ্গের সরকারি বাস পরিষেবায় ‘গতি’ আনার প্রস্তুতি। বহরে নতুন গাড়ি নামানোর পাশাপাশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিচ্ছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা (এনবিএসটিসি)। পুজোর আগেই দু’টি ক্ষেত্রেই পদক্ষেপ করা হবে বলে জানালেন পরিবহন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন।
কোচবিহার পরিবহন ভবনে এনবিএসটিসির আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী। পুজোর মরসুমে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটে যাত্রী চাপ বাড়ে। সেই সময় পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা থেকে শুরু করে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত বাস চালানো সব ক্ষেত্রেই সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ে। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এদিনের বৈঠকে নতুন বাস এবং কর্মী নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠক শেষে আনন্দময় জানান, পুজোর আগেই এনবিএসটিসির বহরে নতুন গাড়ি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, নতুন গাড়ির সঙ্গে পর্যাপ্ত কর্মী থাকলে সংস্থার পরিষেবা আরও শক্তিশালী হবে এবং যাত্রীদের সুবিধাও বাড়বে।
তবে শুধু নতুন বাস বা নিয়োগেই থেমে থাকেনি এ দিনের বৈঠক। এনবিএসটিসির বর্তমান পরিষেবা ব্যবস্থা, পরিকাঠামো এবং সংস্থার বিভিন্ন সমস্যার বিষয়েও আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী। কোন ক্ষেত্রে পরিষেবার ঘাটতি রয়েছে, কোথায় পরিকাঠামোগত উন্নতি প্রয়োজন এবং যাত্রী পরিষেবাকে আরও কার্যকর করতে কী কী পদক্ষেপ করা যায় তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুজোর মরসুমে উত্তরবঙ্গের শহর, মফস্সল এবং প্রত্যন্ত এলাকার মধ্যে যাতায়াতের চাপ অনেকটাই বেড়ে যায়। ট্রেনের পাশাপাশি সরকারি বাসও বহু মানুষের অন্যতম ভরসা। ফলে বাসের সংখ্যা এবং কর্মী দুই ক্ষেত্রেই ঘাটতি থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে যাত্রী পরিষেবায়। সেই জায়গা থেকেই পুজোর আগে নতুন বাস ও কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পরিবহণ সংক্রান্ত একাধিক বিষয়েও বক্তব্য রাখেন আনন্দময়। তবে নতুন গাড়ি কতগুলি নামবে, কত জন কর্মী নিয়োগ করা হবে এবং কোন কোন রুটে তার প্রভাব পড়বে সে বিষয়ে এ দিন নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি।
পুজোর আগে তাই নজর এখন এনবিএসটিসির পরবর্তী পদক্ষেপে। নতুন বাসের চাকা গড়ালে এবং কর্মী-ঘাটতি মিটলে উত্তরবঙ্গের সরকারি পরিবহণে কতটা বদল আসে, সেটাই দেখার।





