আলিপুরদুয়ার, ১৬ সেপ্টেম্বরঃ একসময় যে জঙ্গলে ছিল বাঘের আনাগোনা, সেই বক্সা আবার অপেক্ষায় ‘ডোরাকাটা’র। বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে বাঘিনী এনে বক্সা টাইগার রিজার্ভে ছাড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে বন দফতর। সেই কাজের জন্য ইতিমধ্যেই বিহারে পৌঁছে গিয়েছে বক্সার ১৫ জনের বিশেষ দল। সঙ্গে রয়েছে বাঘিনী পরিবহণের জন্য বিশেষ অ্যাম্বুল্যান্স এবং খাঁচাও।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২ অক্টোবর বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে বাঘিনীকে ছেড়ে দেওয়া হবে। তার প্রায় এক সপ্তাহ আগে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় বাঘিনীকে ঘুমপাড়ানি গুলি করে কাবু করা হবে। তার পর বিশেষ নিরাপত্তায় ‘গ্রিন করিডর’ তৈরি করে তাকে বক্সায় নিয়ে আসা হবে। সরাসরি জঙ্গলে না ছেড়ে প্রথমে বাঘিনীর জন্য তৈরি বিশেষ এনক্লোজারে রাখা হবে। সেখানে কয়েক দিন পর্যবেক্ষণে রাখার পর পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে জঙ্গলে ছাড়া হবে তাকে।
বাঘিনীকে জঙ্গলে ছাড়ার অনুষ্ঠানও হচ্ছে আলাদা ভাবে। আলিপুরদুয়ার শহরের প্যারেড গ্রাউন্ডে হবে সেই আয়োজন। জঙ্গলে বাঘিনীকে ছেড়ে দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে সেখানে। ফলে বক্সার জঙ্গলের ভিতরে না গিয়েও সাধারণ মানুষ সেই মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পারবেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিত থাকার কথা।
রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ জানিয়েছেন, ২ অক্টোবর বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভের বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হবে। প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠান থেকে সেই দৃশ্য লাইভ দেখানোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
১৯৮২ সালে দেশের ১৫তম ব্যাঘ্র প্রকল্প হিসেবে বক্সা টাইগার রিজার্ভের মর্যাদা পেয়েছিল। পাহাড় ও সমতল মিলিয়ে প্রায় ৭৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত এই বনাঞ্চলে একসময় ২০টিরও বেশি বাঘ থাকার রেকর্ড রয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বক্সার জঙ্গল বাঘশূন্য হয়ে পড়ে।
তবে গত কয়েক বছরে ভুটান থেকে বাঘের বক্সায় যাতায়াতের ছবি ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। সেই সম্ভাবনাকেই সামনে রেখে বক্সায় ফের স্থায়ী ভাবে বাঘের বিচরণ ও প্রজননের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে বন দফতর। বাইরের রাজ্য থেকে বাঘ এনে বংশবৃদ্ধির পরিকল্পনাও সেই বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ।
এখন তাই নজর ২ অক্টোবরের দিকে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বক্সার জঙ্গলে ফের ডোরাকাটা অতিথির পায়ের ছাপ পড়ে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে সেদিনই।





