মনিরুল হক, কোচবিহারঃ নির্বাচনের আগে কোচবিহারের দিনহাটার জনসভা থেকে ভোটার তালিকা ও এনআরসি ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে হাজার হাজার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “দিনহাটায় ১৮ হাজারের বেশি নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। যাঁদের নাম ওঠেনি, তাঁদের নাম আমরা তুলে আনব।” তিনি আরও বলেন, ভোটারদের ভয় দেখিয়ে তাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, “যাঁদের নাম থাকবে না, তাঁদের তাড়িয়ে দেবেন আপনি তাড়াবার কে?”
এদিন এনআরসি ইস্যুতেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, অসম থেকে নোটিস পাঠিয়ে রাজবংশী ও মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের চাপে রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কেউ বাংলার মানুষকে অনুপ্রবেশকারী বলতে পারে না। বাংলার নাগরিকরা বাংলাতেই থাকবেন।” একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, তাঁর সরকার থাকতে কোনওভাবেই এনআরসি বা ডিটেনশন ক্যাম্প চালু হতে দেওয়া হবে না।
বিজেপির বিরুদ্ধে বহিরাগত ইস্যুতেও তোপ দাগেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বাইরে থেকে লোক এনে ভোটে প্রভাব ফেলতে চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “বর্ডারগুলির দিকে নজর রাখুন। বাইরে থেকে লোক ঢুকে ভোট লুট করার চেষ্টা করবে।”
এছাড়া ভোটের সময় ফর্ম ফিলআপ ও তথ্য সংগ্রহ নিয়েও সরব হন মমতা। তাঁর অভিযোগ, “মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য নেওয়া হচ্ছে, পরে তা অপব্যবহার করা হতে পারে।” তিনি দাবি করেন, এইভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে।
তবে সমর্থকদের শান্ত থাকার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই ক’টা দিন ধৈর্য ধরুন, কোনও গন্ডগোলে যাবেন না। শুধু নজর রাখবেন যাতে ভোট লুট না হয়।”
রাজনৈতিক বার্তায় তিনি জানান, তৃণমূল কংগ্রেস এবার আগের থেকেও বেশি আসনে জয়ী হবে এবং কোচবিহার থেকেই সেই জয়ের সূচনা হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন বিরোধী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং যৌথভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেন।
সভা শেষে আত্মবিশ্বাসী সুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মানুষের পাশে ছিলাম, আছি, থাকব। ভয় পাওয়ার কিছু নেই, ভোটের পর সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।”





