মনিরুল হক, কোচবিহারঃ বাংলায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভূমিকা এবং জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ এই তিন ইস্যুকে সামনে রেখে মাথাভাঙার জনসভা থেকে আক্রমণাত্মক সুরে বক্তব্য রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কোচবিহারের ঘোকসাডাঙা ছোটশিমূলগুড়ি গ্রাউন্ডে আয়োজিত নির্বাচনী সভা থেকে তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতারা তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং বাংলার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উদ্ধব ঠাকরে, অখিলেশ যাদব, এম কে স্ট্যালিন এবং তেজশ্বি যাদব তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, “দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নেতারাই জানেন, বাংলায় কীভাবে বিজেপি অত্যাচার চালাচ্ছে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি জাতীয় স্তরে বিরোধী ঐক্যের ইঙ্গিতও দেন।
এদিনের সভা থেকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ,রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বিরোধী দলকে চাপে রাখার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “ভয় দেখিয়ে বাংলাকে দমিয়ে রাখা যাবে না। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”
মহিলা সংরক্ষণ বিল ও আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন প্রসঙ্গেও তীব্র সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এই দুই পৃথক বিষয়কে একসঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এর পিছনে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “এটা আসলে রাজ্য ভাগ করার একটা বড় চক্রান্ত। আসন পুনর্বিন্যাসের আড়ালে ভোটারদের নাম কেটে দেওয়া হবে এবং এনআরসি কার্যকর করার চেষ্টা হবে।” এই বক্তব্যে তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, “মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার যে কোনও চেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে রাজ্যের ভোটারদের বার্তা দিতে চেয়েছেন, অন্যদিকে জাতীয় স্তরে বিরোধী জোটের শক্তি প্রদর্শনও করেছেন। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের বার্তা গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
মাথাভাঙার জনসভা থেকে স্পষ্ট, আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস শুধু রাজ্য নয়, জাতীয় রাজনীতির সমীকরণকেও সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান জোরালো করতে চাইছে। উন্নয়ন, অধিকার এবং রাজনৈতিক প্রতিরোধ এই তিনকেই হাতিয়ার করেই ভোটের লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত শাসক শিবির।




