কলকাতা, ২ জুনঃ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। এই আবহে মঙ্গলবার কলকাতার ওয়াই চ্যানেলে দলের ডাকা কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিশেষ নজর ছিল। কারণ, অনেকের মতে এটি ছিল দলীয় শক্তি ও ঐক্যের বার্তা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। তবে প্রত্যাশার তুলনায় উপস্থিতি কম হওয়ায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
সম্প্রতি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বিধায়কদের বৈঠকেও উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কালীঘাটে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে অনেক বিধায়ক অনুপস্থিত থাকায় শেষ পর্যন্ত বৈঠক বাতিল করতে হয়েছিল। এরপর মঙ্গলবারের কর্মসূচিকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলের কৌতূহল ছিল বেশি।
এদিনের কর্মসূচিতে দলের কয়েকজন বিধায়ক ও সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। বিধায়কদের মধ্যে ছিলেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, ফিরহাদ হাকিম, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, অশোক দেব এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সাংসদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম, দোলা সেন, মালা রায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে দলের মোট জনপ্রতিনিধিদের তুলনায় উপস্থিতির হার নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যদিও এই পরিস্থিতিতেও আত্মবিশ্বাস হারাননি তৃণমূল নেত্রী। ওয়াই চ্যানেল থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি কারও সুদিনে না-হোক, দুর্দিনে আছি।” পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল বিভিন্নভাবে জনপ্রতিনিধিদের দলে টানার চেষ্টা করছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “বিজেপি ছাড়া দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। অনেকের কঠিন সময়ে আমি পাশে থেকেছি। বেঁচে থাকলে বিজেপিকে বাংলার রাজনীতি থেকে সরানোর লড়াই চালিয়ে যাব।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং সংগঠনকে পুনর্গঠন করাই এখন তৃণমূল নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবারের কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।





