কলকাতা, ৮ ডিসেম্বরঃ রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ উদ্যোগ এসআইআর ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে। এই প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত কত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে তা নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা চলছে রাজ্য রাজনীতিতে। বিরোধী শিবির থেকে শাসকদল, নির্বাচন কমিশন থেকে সাধারণ ভোটার সকলে এখন নজর রাখছেন এই সংশোধন প্রক্রিয়ার ওপর।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে শুরু হওয়া এসআইআর-এর মূল উদ্দেশ্য হলো ভোটার তালিকায় থাকা পুরনো, ভুল বা অসত্য তথ্য সংশোধন করা। বিশেষত যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের নাম একাধিক জায়গায় রয়েছে, কিংবা স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গেছেন তাঁদের নাম নিরীক্ষা করে বাদ দেওয়াই এই প্রক্রিয়ার প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণেই নাম বাদ পড়ার সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আগেই দাবি করেছিলেন, এসআইআর-এর মাধ্যমে ১ কোটিরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। শাসকদলের অভিযোগ, বিরোধীরা অকারণে আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, কমিশনের এই উদ্যোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ করে ব্যবহার করা হতে পারে।
এদিকে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার সন্ধে পর্যন্ত ৫৫ লক্ষ ৪৫ হাজার ১৬৭ জন ভোটার বাদের তালিকায় রয়েছেন। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এনুমারেশন পর্বে প্রতিদিন প্রায় ১ লক্ষ করে নাম যুক্ত হচ্ছে সন্দেহভাজন বা সম্ভাব্য বাদের তালিকায়। যদিও এই সংখ্যা এখনও বিরোধীদের দাবি করা ১ কোটির কাছাকাছি নয়, তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
উল্লেখ্য, ১১ ডিসেম্বর, বুধবার এসআইআর-এর এনুমারেশন পর্ব শেষ হচ্ছে। তারপর শুরু হবে যাচাই-বাছাই, শুনানি ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরির কাজ। সেই তালিকা প্রকাশের পরেই স্পষ্ট হবে, ঠিক কতজন ভোটারের নাম শেষ পর্যন্ত বাদ যাচ্ছে।
রাজ্যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে এই উত্তেজনা যে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়াবে, তা স্পষ্ট। আপাতত নজর ১১ ডিসেম্বরের দিকে এসআইআর-এর চূড়ান্ত অঙ্ক প্রকাশ্যে এলেই মিলবে রহস্যের জবাব।





