কলকাতা, ১৩ মেঃ আরজি কর কাণ্ডে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নতুন মোড়। বুধবার শিয়ালদহ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আরও তিন জনের গ্রেফতারির দাবি জানাল নির্যাতিতার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার পর প্রমাণ নষ্ট ও তদন্তে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। সেই কারণেই পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ-সহ সোমনাথ দাস ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির দাবি তোলা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতিতার দেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় নথি পরিবারের হাতে তুলে না দিয়েই দ্রুত দাহকার্য সম্পন্ন করা হয়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট তিন জনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে।
এদিন আদালতে উপস্থিত হয়ে CBI-এর আইনজীবী জানান, তদন্তকারী সংস্থা কাকে গ্রেফতার করবে, তা আদালত নির্দেশ দিতে পারে না। অন্যদিকে নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী দাবি করেন, ঘটনার পর থেকেই কয়েকজন সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, “দেহ কার্যত হাইজ্যাক করা হয়েছিল।”
পাশাপাশি ২০২৪ সালে জমা দেওয়া চার্জশিটে অতিরিক্ত চার্জশিট দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও এখনও তা জমা পড়েনি বলেও অভিযোগ তোলা হয়। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক জানান, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৫ জুন।
উল্লেখ্য, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আরজি কর কাণ্ডে নিহত নির্যাতিতার মাকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। উত্তর ২৪ পরগনার একটি কেন্দ্রে তিনি জয়ীও হয়েছেন। অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ।
নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই ঘোষণা করেছিলেন, আরজি কর-কাণ্ডে নতুন করে কমিশন গঠন করা হবে এবং নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুধবার আদালত চত্বরে নির্যাতিতার মা বলেন, “আমার মেয়ে ছিল আমার গোটা পৃথিবী। ওর জন্য লড়াই আমি চালিয়ে যাব।”





