পূর্ব বর্ধমান, ১৯ জুনঃ প্রেমের সম্পর্কে পরিবারের আপত্তির জেরে মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট। একই গ্রামের এক নাবালক ও এক নাবালিকার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলকোট থানার কুঁদো গ্রামে। পুলিশ দেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
মৃতদের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৬ বছরের বিক্রম মাজি এবং ১৪ বছরের নন্দিনী মাজির মধ্যে প্রায় এক বছর ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। দু’জনেই একই এলাকার বাসিন্দা। নন্দিনী স্থানীয় বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল, অন্যদিকে বিক্রম সংসারের আর্থিক চাপে কয়েক বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করে।
স্থানীয়দের দাবি, তাঁদের সম্পর্কের কথা দুই পরিবারই জানতে পেরেছিল। বয়স কম হওয়ায় এবং ভবিষ্যতের কথা ভেবে পরিবারের সদস্যরা তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে সেই সম্পর্ক ভাঙতে রাজি ছিল না কেউই।
বৃহস্পতিবার রাতে দু’জনেই নিজেদের বাড়িতে ছিল বলে পরিবারের দাবি। কিন্তু গভীর রাতে নন্দিনী বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিক্রমের বাড়িতে যায় বলে অনুমান। শুক্রবার ভোরে বিক্রমের মা ছেলেকে কাজে যাওয়ার জন্য ডাকতে গিয়ে কোনও সাড়া না পেয়ে সন্দেহ করেন। পরে জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভিতরে ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান তিনি।
পড়শিদের ডেকে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকার পর দেখা যায়, বিক্রম ও নন্দিনী একই কাপড়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। নন্দিনীর সিঁথিতে সিঁদুরও দেখা যায়। এই দৃশ্য দেখে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেহ দুটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।





