কলকাতা, ২ আগস্টঃ বৃষ্টির দাপটে আগেই চড়েছিল সবজির বাজার। তার উপর পাইকারি ও খুচরো দামের বিস্তর ফারাক ঘিরে অসন্তোষ বাড়ছিলই। সেই পরিস্থিতিতে বাজারে লাগাম টানতে রবিবার সকাল থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সবজি বাজারে অভিযান চালাল ইনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (ইবি) ও পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর প্রশাসনের এই তৎপরতা ঘিরে বাজারজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
শ্যামবাজার, কোলে মার্কেট, গড়িয়া বাজার, যদুবাবুর বাজার-সহ শহরের একাধিক বাজারে গিয়ে সবজি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন ইবি-র আধিকারিকেরা। কোন সবজি কত দামে বিক্রি হচ্ছে, প্রতিদিন দামের ওঠানামার কারণ কী, পাইকারি ও খুচরো দামের মধ্যে এত ব্যবধান কেন এসব বিষয়েই খোঁজখবর নেওয়া হয়। ক্রেতাদের সঙ্গেও কথা বলে বাজারের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন তাঁরা। প্রশাসনের দাবি, রাজ্যের সর্বত্র যাতে একই ধরনের ন্যায্য দামে সবজি বিক্রি হয়, সেই লক্ষ্যেই এই অভিযান।
কলকাতার বাইরে পূর্ব মেদিনীপুরের দেউলিয়া বাজার ও কোলাঘাট, দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুর, নদিয়ার শান্তিপুর-সহ একাধিক জায়গাতেও অভিযান চলে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং জনপ্রতিনিধিরা বাজারে গিয়ে শুধু সবজির দামই নয়, সারের দোকানেও অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা কয়েক দফার ভারী বৃষ্টিতে মাঠ থেকে সবজি তোলা ও পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। তারই প্রভাব পড়েছে বাজারে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, সেই সুযোগে অনেক খুচরো ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। বর্তমানে কাঁচালঙ্কা কেজি প্রতি প্রায় ২০০ টাকা, টম্যাটো ১১৫-১২০ টাকা, বেগুন ৮০-৯০ টাকা, আর পটল, ঢেঁড়স, ঝিঙে, বরবটি-সহ প্রায় সব সবজির দামই গত এক মাসে কেজিপিছু ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। ডিমের বাজারও একইভাবে ঊর্ধ্বমুখী। প্রশাসনের আশা, নজরদারি বাড়লে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে কিছুটা হলেও লাগাম টানা সম্ভব হবে।





