কলকাতা, ১৩ ডিসেম্বর: মাসের পর মাস অপেক্ষা, বহু মানুষ মাইনের পুরো টাকা খরচ করে টিকিট কেটেও প্রিয় ফুটবলার লিয়োনেল মেসির এক ঝলক দেখতে পেলেন না। শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে যে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তা বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে একেবারে লজ্জাজনক অধ্যায় হয়ে থাকল। প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ফারাক এতটাই ছিল যে শেষ পর্যন্ত ক্ষুব্ধ দর্শকদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা স্টেডিয়াম চত্বর।
অনুষ্ঠান শুরুর আগেই প্রবেশব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং ব্যবস্থাপনায় একের পর এক ত্রুটি সামনে আসে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও মেসির দেখা না মেলায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে দর্শকদের মধ্যে। অভিযোগ, পর্যাপ্ত গেট খোলা ছিল না, টিকিট যাচাইয়ে ছিল চরম অব্যবস্থা, ফলে বহু দর্শক ভিতরে ঢুকতেই পারেননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতেই শুরু হয় ভাঙচুর। কাঁচের বোতল, চেয়ার ছোড়াছুড়ি চলতে থাকে মাঠের মধ্যেই। আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন বহু দর্শক।
এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন ফুটবলপ্রেমীরা। তাঁদের বক্তব্য, এত বড় আন্তর্জাতিক তারকার অনুষ্ঠানে এমন অব্যবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। বহু পরিবার, শিশু ও প্রবীণ মানুষ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে স্টেডিয়ামে ছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের হস্তক্ষেপ করতে হয়।
লজ্জাজনক এই ঘটনার পর এবার মুখ খুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “আজ সল্টলেক স্টেডিয়ামে যে অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে তাতে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত। হাজার হাজার ক্রীড়াপ্রেমীর সঙ্গে আমিও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলাম। এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য লিয়োনেল মেসি এবং সমস্ত ক্রীড়াপ্রেমী ও তাঁর ভক্তদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি।”
শুধু ক্ষমা প্রার্থনাই নয়, গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে। ওই কমিটিতে মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব থাকবেন। কমিটি ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে দায়িত্ব নির্ধারণ করবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।





