কলকাতা, ১৩ মেঃ তিলজলার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনার পর অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র স্পষ্ট নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিলজলা এলাকায় শুরু হল বুলডোজার অভিযান। বুধবার রাতে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এবং কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি-র যৌথ উদ্যোগে একাধিক অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিলজলা এলাকায় অন্তত দু’টি বহুতল নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। এলাকায় ৪ থেকে ৫টি বুলডোজার মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার তপসিয়ার জিজে খান রোড এলাকায় একটি চারতলা ভবনের দোতলায় থাকা চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগে। ঘটনায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় দু’জনের। আহত হন আরও কয়েকজন। তদন্তে উঠে আসে, ভবনটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং সেখানে কোনও বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান বা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না।
এরপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শহরে ছড়িয়ে থাকা অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেবে। তাঁর নির্দেশ ছিল, “এক দিনের মধ্যে অবৈধ বহুতল ভেঙে ফেলতে হবে।” সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই দ্রুত মাঠে নামে প্রশাসন।
সরকারি সূত্রে খবর, শুধু তিলজলা নয়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ কারখানা ও নির্মাণ চিহ্নিত করতে বিশেষ অডিট শুরু হয়েছে। যেসব ভবনে বৈধ অনুমোদন নেই বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত, সেগুলির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে এই প্রথম বড়সড় অভিযান শুরু হল কলকাতায়।





