দিল্লি, ২৭ জুলাইঃ প্রশ্নফাঁস রুখতে কেন্দ্রের নতুন আইন আনার উদ্যোগেই উত্তাল হল সংসদ। বিরোধীদের প্রবল বিক্ষোভের মধ্যেই সোমবার লোকসভায় পেশ হল ‘পাবলিক একজামিনেশন (সংশোধনী) বিল’, যা ‘প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল’ নামেই পরিচিত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিলটি পেশ করতেই সরব হয়ে ওঠে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। তাঁদের অভিযোগ, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতেই এই বিল আনা হয়েছে। হইচই ও বিক্ষোভের জেরে দুপুর ২টো পর্যন্ত মুলতুবি রাখতে হয় লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন।
বিল পেশের আগে বিরোধীদের সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তাঁর বক্তব্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ এবং পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এই আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিলটি দ্রুত পাশ করানোই সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
তবে সরকারের সেই যুক্তি মানতে নারাজ বিরোধীরা। কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ অভিযোগ করেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থ। তাঁর দাবি, “প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে অভিযুক্তরা শাস্তি এড়িয়ে যাচ্ছে। অথচ সরকার এখন লোক দেখাতে বিল আনছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শুধু আইন এনে কোনও লাভ হবে না।”
সংসদের বাইরে ছাত্র আন্দোলন নিয়েও এদিন কেন্দ্রকে একযোগে আক্রমণ শানায় বিরোধীরা। ২০ জুলাইয়ের ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ ও প্যালেট গান ব্যবহারের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাবদিহি দাবি করেন কংগ্রেস নেতারা। কংগ্রেস নেতা পবন খেরার প্রশ্ন, আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উপর কার নির্দেশে এমন বলপ্রয়োগ করা হল? তাঁর অভিযোগ, মহিলাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও একই সুরে বলেন, “পড়ুয়ারা কি জঙ্গি, যে তাঁদের উপর প্যালেট গান চালানো হবে? এই ঘটনার জবাব না পাওয়া পর্যন্ত আমরা চুপ থাকব না।”
প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিলকে ঘিরে সংসদের অচলাবস্থা আরও একবার কেন্দ্র-বিরোধী সংঘাতকে প্রকাশ্যে এনে দিল। বিলের ভবিষ্যৎ যেমন নজরে, তেমনই ছাত্র আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক চাপ বাড়ল কেন্দ্রের উপর।





