কলকাতা, ১ সেপ্টেম্বরঃ রামপুরহাটের বাড়ি থেকে উদ্ধার হল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইঝি বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের দেহ। মঙ্গলবার দুপুরে কুসুম্বা গ্রামের বাড়ি থেকেই তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, বৃষ্টি আত্মহত্যা করেছেন। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে মানসিক অবসাদের সমস্যায় ভুগছিলেন বৃষ্টি। তাঁর চিকিৎসাও চলছিল বলে দাবি পরিবারের। এরই মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় তাঁর নাম উঠে আসে। সেই সূত্রে স্থানীয় একটি স্কুলে তাঁর গ্রুপ সি-র চাকরি চলে যায় বলে জানা গিয়েছে। চাকরি হারানোর পর থেকেই তিনি মানসিক ভাবে আরও ভেঙে পড়েছিলেন বলে পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে।
সম্প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলা চলছিল। একের পর এক পরিস্থিতি তাঁকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
রামপুরহাটের কুসুম্বা গ্রামেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামারবাড়ি। বৃষ্টির বাবা নীহার মুখোপাধ্যায় মমতার মামাতো ভাই। তিনি এক সময় রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি ছিলেন। সেই রাজনৈতিক পরিচয়ের সূত্রেই বৃষ্টির নামও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তের সময় বৃষ্টির চাকরি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তী সময়ে চাকরি হারানোর বিষয়টি তাঁর জীবনে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছিল ব্যক্তিগত জীবনের টানাপড়েন।
মঙ্গলবার বাড়িতে বৃষ্টিকে মৃত অবস্থায় পাওয়ার পর খবর যায় পুলিশে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মৃত্যুর আগে কোনও বার্তা বা অন্য কোনও তথ্য তিনি রেখে গিয়েছিলেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বৃষ্টির মৃত্যুর নেপথ্যে ঠিক কী ছিল, তা নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না তদন্তকারীরা। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের মানসিক অবসাদ এবং সাম্প্রতিক নানা পরিস্থিতি তাঁর উপর প্রভাব ফেলেছিল। তবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।





