দিল্লি, ৮ ডিসেম্বরঃ মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন রাজনৈতিক তরজায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে অভিযোগের তির ছুঁড়ে দাবি করেছেন, “হুমায়ুন কবির বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর রাখেননি, রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন তিনি নাটক করছেন এবং তাঁর দলের সাংসদ-নেতাদের দিয়ে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে বিবৃতি দেওয়াচ্ছেন।” তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর “গোপন এজেন্ডা” অনুযায়ী রাজ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজন ছড়াতেই বাবরি মসজিদের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপ “পরিকল্পিত রণনীতি”, যার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে “শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”
৬ ডিসেম্বর, যে দিন ১৯৯২ সালে অযোধ্যার বাবরি মসজিদ কারসেবকদের হাতে ভেঙে যায়, ঠিক সেই দিনই বেলডাঙায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। অনুষ্ঠানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভিড় জমে, এমনকি সৌদি আরব থেকেও এক ধর্মগুরু উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজকদের দাবি। বহু মানুষ মাথায় ইট নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন, আর সেই ভিড়ে কিছুক্ষণের জন্য জাতীয় সড়কও অবরুদ্ধ হয়ে যায়।
এই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির ঘোষণা করেন, মসজিদ নির্মাণে রাজ্য সরকার বাধা দিচ্ছে; কিন্তু তিনি “মাথা নোয়াবেন না”, প্রয়োজনে “শহিদ” হবেন, তবুও বাবরি মসজিদ নির্মাণ করেই ছাড়বেন। পরে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে সাসপেন্ড করে। হুমায়ুনের দাবী, তিনি কোনও বেআইনি কাজ করেননি। “দেশে যখন মন্দির–গির্জা নির্মাণের স্বাধীনতা আছে, তখন মসজিদ নির্মাণেও অধিকার রয়েছে,” বলেন তিনি।
এদিকে তাঁর বাড়িতে চলছে অনুদানের পাহাড় গোনার ব্যস্ততা। হুমায়ুনের দাবি, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি ৮০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বিভিন্ন দিক থেকে অনুদান আসতেই ১১টি ট্রাঙ্ক ভর্তি নগদ টাকা জমেছে, যা গুনছেন ৩০ জন। কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ৯৩ লক্ষ টাকার বেশি উঠেছে। মোট কত অর্থ জমা পড়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই ও চাঞ্চল্যকর আর্থিক দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। ভবিষ্যতে এর প্রভাব কোন দিকে গড়ায়, এখন সেই দিকেই নজর।





