মহারাষ্ট্র, ৪ অক্টোবরঃ মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে রবিবারের ছবি নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের রাজনৈতিক দূরত্ব ভুলে একই মিছিলে পা মেলালেন উদ্ধব ঠাকরে এবং রাজ ঠাকরে। উপলক্ষ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি। মুম্বইয়ের রাজপথে ‘বিরাট গর্জন মোর্চা’-য় পাশাপাশি হাঁটলেন শিবসেনা (উদ্ধব) নেতা উদ্ধব এবং মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার প্রধান রাজ। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস এবং শরদ পওয়ারের এনসিপি-র একাধিক নেতাও।
দুই ঠাকরে ভাইকে একসঙ্গে দেখে স্বাভাবিক ভাবেই নজর ছিল তাঁদের বক্তব্যের দিকে। রাজ ঠাকরের স্লোগান, “জ্ঞানেশ কাকা, ভোট লুঠ করবেন না।” তাঁর অভিযোগ, মহারাষ্ট্রে এসআইআর-এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রাজের দাবি, ভোটের আগে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম ভোটার তালিকায় তোলা হয়েছিল এবং সেই ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা হয়েছিল। এবার এসআইআর-এর নামে প্রায় দুই কোটি নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্য দিকে, জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে জার্মানির নাৎসি শাসক অ্যাডলফ হিটলারের তুলনা টেনে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন উদ্ধব। অর্থাৎ, দুই ভাইয়ের ভাষায় আলাদা সুর থাকলেও লক্ষ্য ছিল একই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে মিছিলে কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকা ছিল না। জাতীয় পতাকা হাতেই মিছিলে পা মিলিয়েছেন বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। ফলে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এই কর্মসূচিকে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের চেহারা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ চলছে। ২ অক্টোবর দিল্লি ও মুম্বইয়ে ককরোচ জনতা পার্টি-সহ বিভিন্ন সংগঠনের বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়ায়। দিল্লিতে বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। এর পর আগামী ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে ফের বড়সড় কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি।
জ্ঞানেশ-বিরোধী আন্দোলনের আবহে উদ্ধব-রাজের এই একসঙ্গে পথে নামা তাই শুধু একটি মিছিল নয়, মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণেরও ইঙ্গিত কি না সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়।





