কলকাতা, ৩০ এপ্রিলঃ বাংলায় দুই দফার ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হয়েছে। এখন সকলের নজর আগামী ৪ মে গণনার দিকে। আপাতত ভোটের ফল ইভিএমে বন্দি হয়ে স্ট্রং রুমে সুরক্ষিত রয়েছে। তবে গণনা শুরুর আগেই নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে নির্বাচন কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্ত। এই প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে জোড়া মামলা, যা ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
প্রথম মামলাটি দায়ের করেছেন আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, গণনাকেন্দ্রে সুপারভাইজার হিসেবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন, যা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের শামিল। তিনি দাবি করেন, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা ভোট গণনার কাজে যুক্ত থাকতে পারেন, তবে তা শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। এই সিদ্ধান্ত গণনার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কমিশনের এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেছেন আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য। তাঁর আপত্তি গণনাকেন্দ্রের স্থান পরিবর্তন নিয়ে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটার সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে ও কিছু ক্ষেত্রে স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে বিশ্বরূপ ভট্টাচার্যের দাবি, হঠাৎ করে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া আইনসম্মত নয় এবং এতে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
আদালত ইতিমধ্যেই দুটি মামলাই গ্রহণ করেছে এবং আজ, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। এই শুনানির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও, কারণ এর প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন গণনা প্রক্রিয়ার উপর।





