কলকাতা, ১১ ফেব্রুয়ারিঃ কয়লা পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্যে। মঙ্গলবার দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর কয়লা পাচার মামলায় চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খাঁ নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে বিজেপির এক শীর্ষ নেতার নাম উঠে এসেছে বলে দাবি করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
সমাজমাধ্যমে করা এক পোস্টে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, ধৃতদের বয়ানে নাকি ওই নেতার কাছে মাসে মাসে বিপুল পরিমাণ টাকা পৌঁছত। তাঁর আরও দাবি, সংশ্লিষ্ট নেতার বয়ান রেকর্ড করার জন্য ইডি নোটিস জারি করতে পারে। যদিও এই দাবির স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও মেলেনি।
এদিকে, সামনেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে কয়লা পাচার মামলায় তদন্তের গতি বাড়ায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইডি সূত্রে জানা গেছে, কলকাতা-সংক্রান্ত একটি কয়লা পাচার মামলার তদন্তে মঙ্গলবার চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুজনের মধ্যে মামা-ভাগ্নের সম্পর্ক রয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, বাম আমল থেকেই অবৈধ কয়লা কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খাঁ। পরে সেই কারবার বিস্তৃত হয়ে বালিপাচারেও ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই সিন্ডিকেটের আর্থিক ও অপারেশনাল দিক সামলানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ধৃতদের। বিভিন্ন তল্লাশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে বলেও জানা গেছে।
চিন্ময় মণ্ডলের বাড়ি পুরুলিয়া জেলায় হলেও দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের অম্বুজা নগরী ও বিধাননগরে তাঁর অফিস রয়েছে বলে তদন্তে জানা যায়। অন্যদিকে কিরণ খাঁ রানিগঞ্জের বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধেও বালিপাচারে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষের দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত বিজেপি নেতা বা বিজেপির তরফে এখনও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ইডি ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





