খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৯ জানুয়ারি: টিভির পর্দায় নিয়মিত ‘কথায় কথায়’ রাজ্য সরকারকে আক্রমণ, শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় সরব এমন পরিচিত মুখ হয়েও রাজ্য বিজেপি কমিটিতে জায়গা হল না সজল ঘোষ, শঙ্কুদেব পণ্ডা ও কৌস্তভ বাগচীর। বুধবার ঘোষিত রাজ্য বিজেপির নতুন কমিটিতে একটিও পদাধিকারী পদে ঠাঁই মেলেনি এই তিন নেতার। বিষয়টি ঘিরে বিজেপির অন্দরেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বিজেপি সূত্রে খবর, প্রবল চাপ থাকা সত্ত্বেও উত্তর কলকাতার কাউন্সিলর নেতা সজল ঘোষ, আইনজীবী শঙ্কুদেব পণ্ডা ও কৌস্তভ বাগচীকে রাজ্য কমিটি থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনজনই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। দলের একাংশের দাবি, ‘নব্য বিজেপি’ শিবিরের প্রতিনিধি হিসেবেই এই তিন নেতা পরিচিত ছিলেন, আর সেই কারণেই পুরনো বিজেপি নেতৃত্বের আপত্তির মুখে তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পায়নি।
একইসঙ্গে চর্চায় থাকা আরেক আইনজীবী নেতা তরুণজ্যোতি তেওয়ারির নামও শেষ মুহূর্তে বাদ পড়ে। যদিও তাঁকে রাজ্য যুব মোর্চার সভাপতি করার জন্য আগের ক্ষমতাসীন শিবিরের তরফে প্রবল চেষ্টা চলেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ডা. ইন্দ্রনীল খাঁ শমীক ভট্টাচার্যের আস্থা অর্জন করে যুব মোর্চার সভাপতির পদে বসেন।
দলের অন্দরমহলে প্রশ্ন উঠেছে কেন এই তিন নেতাকে কমিটি থেকে দূরে রাখা হল? বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, একাধিক কারণ সামনে এসেছে। প্রথমত, দলের পুরনো নেতা-কর্মীদের বড় অংশের আপত্তি ছিল। দ্বিতীয়ত, এই তিন নেতার মধ্যে দু’জন অতিসক্রিয় হয়ে ওঠায় দলের ভিতরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ। তৃতীয়ত, রাজ্যস্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে হলে বিজেপির আদর্শ ও সংগঠন সম্পর্কে গভীর ধারণা প্রয়োজন, যা সকলের মধ্যে নেই বলেও মত দলের একাংশের। চতুর্থত, যাঁদের নাম নিয়ে চর্চা চলছিল, তাঁদের বিষয়ে আরএসএসের তরফে সবুজ সঙ্কেত মেলেনি।
ফলে পুরনো কমিটির কয়েকজনকে পদ অদলবদল করে রেখে এবং নতুন কমিটিতে একাধিক পুরনো মুখকে জায়গা দিয়ে ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। শুভেন্দু ঘনিষ্ঠদের অনেকে কেন জায়গা পেলেন না এই প্রশ্নে রাজ্য বিজেপি সভাপতি সাফ জানিয়ে দেন, “আমারও অনেক ঘনিষ্ঠ এই কমিটিতে নেই।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিজেপির অন্দরের শক্তির সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।





