নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ওবিসি সংশোধনী বিলকে ঘিরে বিধানসভার রাজনৈতিক লড়াইয়ের মধ্যেই দেখা গেল বিরল নাটকীয়তা। ভোটাভুটির ঠিক আগে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলেন তৃণমূলের একাংশের বিধায়ক। কিন্তু দলেরই পাঁচ বিধায়ক থেকে গেলেন ভিতরে। যদিও তাঁরা ভোটাভুটিতে অংশ নেননি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। পরে ওই পাঁচ বিধায়ককে প্রকাশ্যেই অভিনন্দন জানাতে দেখা যায় বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে।
সোমবার বিধানসভায় ওবিসি সংশোধনী বিল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে স্পিকার ভোটাভুটির ঘোষণা করেন। সেই মুহূর্তেই অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, শিউলি সাহা-সহ ঋতব্রতপন্থী বলে পরিচিত একদল তৃণমূল বিধায়ক। কিন্তু ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম, হাসনের কাজল শেখ, বসিরহাট উত্তরের তৌসিফুর রহমান, সাগরদিঘির বায়রন বিশ্বাস এবং মুরারইয়ের মোশারফ হোসেন কক্ষের মধ্যেই থেকে যান।
বিধানসভা সূত্রের দাবি, স্পিকারের ভোটাভুটির নির্দেশ ঘোষণার পর নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ায় ওই পাঁচ বিধায়ক আর কক্ষ ছেড়ে বেরোতে পারেননি। ফলে তাঁরা ভিতরে থাকলেও ভোটদানে অংশ নেননি। তাঁদের এই অবস্থান ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসতে শুরু করেছে।
ভোটাভুটির পর কুণাল ঘোষ ওই পাঁচ বিধায়কের কাছে গিয়ে তাঁদের অভিনন্দন জানান। তাঁর মন্তব্য, “আপনারা থেকে ঠিক করেছেন, ওরা বেরিয়ে গিয়েছে, যাক।” যদিও এই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
শেষ পর্যন্ত ওবিসি সংশোধনী বিল ১৮৬ ভোটে বিধানসভায় পাস হয়। বিলের বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৭টি। ভোটদানে বিরত থাকেন ছয় জন। তবে বিল পাসের রাজনৈতিক তাৎপর্যের পাশাপাশি ভোটাভুটির মুহূর্তে শাসকদলের অন্দরেই যে দৃশ্য প্রকাশ্যে এল, তা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।






