রেজিনগর, ১৫ সেপ্টেম্বরঃ মনোনয়নের শেষ দিন বুধবার। তার আগেই সোমবার সন্ধ্যায় দুই উপনির্বাচন কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। নন্দীগ্রামে মহম্মদ এহেতাশ মুল হক, আর রেজিনগরে সফিউজ্জামান শেখ। দ্বিতীয় নামটিই এখন মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে বাড়তি কৌতূহলের কারণ। কারণ, সফিউজ্জামান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ হওয়ার পাশাপাশি পরিচিত ‘হাবিব মাস্টার’ নামে। আর তাঁর আর এক পরিচয় তিনি মুর্শিদাবাদের এনসিপিআই সাংসদ আবু তাহের খানের ভাগ্নে।
প্রার্থী ঘোষণা হতেই অবশ্য সময় নষ্ট করেননি সফিউজ্জামান। সরাসরি নেমে পড়েছেন প্রচারে। তাঁর বার্তা, দল তাঁর উপর আস্থা রেখেছে। সেই আস্থার মর্যাদা রাখতে ‘মাটি কামড়ে’ লড়াই করবেন তিনি।
পেশায় শিক্ষক সফিউজ্জামান দীর্ঘদিনের তৃণমূল সংগঠক। এক সময় নওদা ব্লক তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। বর্তমানে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও তথ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ। ফলে শিক্ষক পরিচিতি, সংগঠনের অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক যোগাযোগ তিনটিকেই সামনে রেখেই তাঁকে রেজিনগরে বাজি করেছে ঋতব্রত শিবির, এমনটাই দাবি দলের সূত্রের।
এই প্রার্থীপদ ঘিরে আবু তাহেরের অবস্থানও স্পষ্ট। তিনি জানিয়েছেন, ভাগ্নে জিতুক, সেটাই তাঁর আশা। প্রচারে গেলে প্রকাশ্যেই বলবেন, কার হয়ে এবং কেন প্রচারে এসেছেন।
তবে এখানেই তৈরি হচ্ছে রাজনৈতিক প্রশ্ন। অভিযোগ উঠছে, সফিউজ্জামানকে প্রার্থী করে কার্যত ভোট ভাগের রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থীর সুবিধা করে দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। যদিও সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছেন আবু তাহের। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির মতোই ওই দলও তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। রেজিনগরে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির পক্ষে লড়াই করতেই সফিউজ্জামানকে প্রার্থী করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির রেজিনগরে প্রার্থী করেছে প্রাক্তন বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরীকে। ফলে একই দলের দুই শিবিরের দুই প্রার্থী রেজিনগরের লড়াই কার্যত দাঁড়িয়েছে ‘তৃণমূল বনাম তৃণমূল’।
এই দ্বন্দ্বই এখন ভোটের অঙ্কে কতটা ছাপ ফেলে, সেটাই বড় প্রশ্ন। বিজেপি, কংগ্রেস এবং বাম শিবিরও এই বিভাজনের রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইবে। মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলে দীর্ঘদিনের গোষ্ঠী-টানাপড়েন এ বার রেজিনগরের ভোটযুদ্ধে সরাসরি ব্যালটের লড়াইয়ে নামল। শেষ হাসি কে হাসবে মমতা শিবির, না ঋতব্রত শিবির? উত্তর মিলবে উপনির্বাচনের ফলেই।




